Murder Case

নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়কের আপ্তসহায়ককে নৃশংস ভাবে খুন! গ্রেফতার তিন জন, মদের ঠেক বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের

খবর পেয়ে প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংহ ও তাঁর ছেলে আদিত্য সিংহ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। শেখরকে প্রথমে বারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের নাম শেখর চৌধুরী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০৩:২৪

উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় যুবককে নৃশংস ভাবে খুন। মৃতের নাম শেখর চৌধুরী ওরফে বান্টি (৩০)। তিনি নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল চৌধুরী আপ্তসহায়ক ছিলেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মদের ঠেক বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন বলে স্থানীয়েরা দাবি করছেন।

গারুলিয়া পুরসভা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। শেখর ওই এলাকায় মা, স্ত্রী এবং কন‍্যাকে নিয়ে বসবাস করতেন। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বাড়ির পাশের একটি ক্লাবে কয়েক জন যুবক মদের ঠেক বানিয়েছিলেন। শেখর তারই প্রতিবাদ করে। প্রথমে মদ‍্যপ যুবকদের সঙ্গে বচসা হয়। তা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, যুবকেরা ইট দিয়ে শেখরকে মারধর করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন শেখর।

খবর পেয়ে প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংহ ও তাঁর ছেলে আদিত্য সিংহ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। শেখরকে প্রথমে বারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। তাতে পাঁচ জনকে দেখা যাচ্ছে। শেখরকে মারধর করারও ছবি ধরা পড়েছে। ঘটনায় ভিকি চৌধুরী, আমন চৌধুরী এবং পিন্টু চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি দু’জনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশের দাবি তাঁরা প্রত‍্যক্ষদর্শী। ঘটনায় তাঁরা উস্কানি দিয়েছিল। ধৃতদের সোমবার ব‍্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হবে। প্রসঙ্গত, ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে নোয়াপাড়া থানায় মাদক বিক্রি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নোয়াপাড়ার ঢিল ছোড়া দূরত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুনের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

সুনীল চৌধুরী নোয়াপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি গারুলিয়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি গত ২০১৯ সালে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের হাত ধরে দিল্লিতে গিয়ে কয়েক জন কাউন্সিলরদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সুনীল সিংহ রাজ‍্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিংহের শ‍্যালক। সুনীল পরিবহন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই জেলা রাজনীতিতে পরিচিতি রয়েছে। সোমবার সকালে মৃতের বাড়িতে পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিংহ যান। পরিবারের মানুষের সঙ্গে কথা তিনি বলেন। এই ঘটনার শোক প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, রবিবার রাতে বারুইপুরের ট‍্যাঙ্গারবেড়িয়ায় এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়েছে। মৃতের নাম বাপি প্রামাণিক। সুনীল মন্ডল নামে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছে পরিবার। সুনীলকে দলবিরোধী কাজের জন্য বিজেপি সাসপেন্ড করেছিল। বাপি তৃণমূল জমানায় ১০ বছর বাড়িছাড়া ছিল বলেও পরিবার জানিয়েছে।


Share