H1B Visa

এইচ-১ বি ভিসায় আকাশছোঁয়া ফি! ভারতীয় পড়ুয়া-কর্মীদের আমেরিকা যাওয়ার পথে বড় বাধার আশঙ্কা

ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আমেরিকায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যেতে পারে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৪

আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় পেশাজীবী ও পড়ুয়াদের জন্য বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার আবেদনে নতুন করে এক লক্ষ তিন হাজার ২৬৫ ডলার ফি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আমেরিকায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যেতে পারে।

এইচ-১বি ভিসা মূলত বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গবেষণার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ভিসার মাধ্যমে বহু ভারতীয় আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। ফলে নতুন এই বিপুল অঙ্কের ফি চালু হলে ভারতীয় কর্মী, চাকরিপ্রার্থী এবং তাঁদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলির উপরই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে।

আমেরিকার স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতর এই নতুন ফি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রথমে প্রস্তাবটি সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হবে। এরপর ৩০ দিন ধরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রস্তাবিত নিয়মটি মূলত নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে থাকা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আমেরিকায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার বিশেষ ডিগ্রিধারী বিদেশিদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মতো নির্দিষ্ট সংস্থার ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে না।

আমেরিকা সরকারের দাবি, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে বিপুল প্রশাসনিক খরচ হয়। সেই ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতেই নতুন ফি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৮৫ হাজার আবেদন থেকে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় হতে পারে। এই অর্থ বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রশাসনিক কাজেও ব্যয় করা হবে।

তবে প্রস্তাবিত নতুন ফি নিয়ে আমেরিকায় পড়াশোনা করা বিদেশি পড়ুয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এতদিন আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই চাকরি পেলে এবং ছাত্র ভিসা থেকে এইচ-১বি ভিসায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এক লক্ষ ডলারের পুরনো ফি থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থাৎ, কোনও ভারতীয় পড়ুয়া আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই চাকরি পেলেও তাঁর জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন করতে গিয়ে বিপুল অতিরিক্ত ফি দিতে হতে পারে। ফলে আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই প্রস্তাবও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, একটি ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার আইনি ক্ষমতা আমেরিকা সরকারের আদৌ রয়েছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক খরচের তুলনায় প্রস্তাবিত ফি অস্বাভাবিক রকম বেশি। ফলে নিয়মটি চূড়ান্ত হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে এক লক্ষ ডলার ফি চালুর ঘোষণা করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরেও আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল। এ বার সেই প্রস্তাবের বদলে আরও বেশি অঙ্কের নতুন ফি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে আমেরিকায় চাকরির সুযোগ খুঁজছেন এমন ভারতীয়দের সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়াদের উপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে নতুন প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী দিনে জনমত, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আদালতের রায়ের উপরই নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত এই বিপুল ফি কার্যকর হবে কি না।


Share