Murder Case

শিলিগুড়িতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন, দেহ লুকিয়ে রেখে শেষে তিন দিন পর থানায় স্বীকারোক্তি স্বামীর

অভিযুক্ত স্বামী অরিদ্র বন্দ্যোপাধ্যায় স্ত্রী দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। দেহ তিন দিন ধরে ঘরে লুকিয়ে রাখে বলে অভিযোগ। অবশেষে নিজেই থানায় ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩

শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানার শিবমন্দিরের হালেরমাথা এলাকায় এক গৃহবধূ খুনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, স্বামী স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। পরে ঘরের বিছানায় লুকিয়ে রেখে দেন। মৃতার নাম দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০)। তিনি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। অভিযুক্তের নাম অরিদ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন দিন ধরে তিনি দেহ সরাতে পারেননি। অবশেষে অভিযুক্ত নিজেই থানায় ফোন করে খুনের কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে অরিদ্র ফোন করে জানায় যে, কয়েকদিন আগে সে তার স্ত্রীকে খুন করেছে। দেহটি বাড়িতেই পড়ে রয়েছে। ঘটনার পরে সে তাদের ১১ বছরের ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও জানায়। খবর পেয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসিপি কাজী সামসুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মাটিগাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। সেখানে একটি ফ্ল্যাটের চারতলা থেকে কম্বলে মোড়া দেহ উদ্ধার করে। দেহ থেকে ইতিমধ্যেই দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।

মৃত দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত একটি ব্যাঙ্কে কর্মরত। 

ঠিক কী কারণে এই খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক অনুমান, রবিবার দুপুরের পর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পরিচারিকা কল্পনা রায়ের বয়ানে ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তিনি জানান, মঙ্গলবারও তিনি কাজে এসেছিলেন, কিন্তু অভিযুক্ত তাঁকে একটি ঘরে যেতে বারণ করেন। সেখানে ফ্যান চালু রাখার নির্দেশ দেন। সেই সময় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়নি। বুধবার সকালে ফ্ল্যাটে পুলিশ দেখে পুরো ঘটনা তিনি জানতে পারেন। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে নেমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মালদহ থেকে অভিযুক্ত অরিদ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জেরা করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।


Share