Road Accident

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর স্বীকারোক্তি, সেভক রোড কাণ্ডে পাঁচদিন পর অবশেষে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

শিলিগুড়ির সেভক রোডে হিট অ্যান্ড রান কাণ্ডে পাঁচদিন পর গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত দেবাংশু পাল চৌধুরী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় শঙ্কর ছেত্রীর, গুরুতর জখম হন তাঁর সঙ্গিনী। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৩৪

শিলিগুড়ির সেভক রোডের পথদুর্ঘটনার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। দুর্ঘটনার পাঁচদিন পর সোমবার সকালে তাকে পাকড়াও করে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম দেবাংশু পাল চৌধুরী। তাঁর বাড়ি সেভক রোড এলাকাতেই। তিনি শহরের এক পেট্রল পাম্প মালিকের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ সেভক রোডের এলআইসি বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পানিট্যাঙ্কির বাসিন্দা শঙ্কর ছেত্রী তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি দ্রুতগতির গাড়ি আচমকা পিছন থেকে তাঁদের ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শঙ্কর ছেত্রীর। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর সঙ্গিনীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই শিলিগুড়ি জুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। শহরের বিধায়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত গাড়ির সন্ধান শুরু হয়। অন্যদিকে, ভিডিও ভাইরাল হতেই অভিযুক্ত আত্মগোপন করে। এমনকি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি একটি শোরুমে পাঠিয়ে তার চেহারা বদলে ফেলার পরিকল্পনাও করে বলে অভিযোগ। তবে তদন্তকারীরা নিজেদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করেন। সোমবার সকালে শোরুম থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ আধিকারিকরা নিজেদের হেফাজতে নেন। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। জেরার মুখে সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে ওই রাতে অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের সাহস পায়নি। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। গাড়ি মেরামতের জন্য শোরুমে পাঠায়।

এদিন বিকেলেও শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর অধীনে থানার সামনে এক সংগঠনের তরফে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। অভিযুক্তের পরিবার শহরে প্রভাবশালী হওয়ায় যাতে কোনওভাবেই সে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেই দাবি তোলা হয়।

শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (ট্রাফিক) কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে আইনি নিয়ম মেনেই। ঘটনায় শিলিগুড়ি শহর এখনও উত্তাল। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব বিভিন্ন মহল।


Share