Arrest

সেবক রোডে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর গ্রেফতার অভিযুক্ত, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার

রাস্তার ধারের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণ-তরুণী। সেই সময় দ্রুতগতির একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাথে উঠে তাঁদের সজোরে ধাক্কা মারে। অভিযোগ, ধাক্কার পর গাড়ি না থামিয়ে চালক দু’জনকে বেশ কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:০৪

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক যুগলকে ধাক্কা মেরে তাঁদের বেশ কিছুটা দূরে টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত যুবক। ঘটনার চার দিন পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত চত্বরে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার পরও গ্রেফতারে বিলম্ব হওয়ায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

গত বুধবার গভীর রাতে শিলিগুড়ির সেবক রোডে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তার ধারের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণ-তরুণী। সেই সময় দ্রুতগতির একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাথে উঠে তাঁদের সজোরে ধাক্কা মারে। অভিযোগ, ধাক্কার পর গাড়ি না থামিয়ে চালক দু’জনকে বেশ কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের রাস্তায় ফেলে রেখে গাড়িটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শঙ্কর ছেত্রী নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গিনী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শঙ্করের বাড়ি নকশালবাড়ি এলাকায় হলেও কর্মসূত্রে তিনি শিলিগুড়িতে থাকতেন। এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার পুরো দৃশ্য ধরা পড়েছে। সেই ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন বাসিন্দারা।

অভিযুক্তের নাম দেবাংশু পাল চৌধুরী। স্থানীয় সূত্রে তিনি প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে গাড়িটি শোরুমের ওয়ার্কশপে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চালান রয়েছে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগও নতুন নয়।

মঙ্গলবার দেবাংশুকে আদালতে পেশ করা হলে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। আদালত চত্বরে নিহত ও আহতের পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখিয়ে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই গ্রেফতারে বিলম্ব হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ সিংহ বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।” অন্যদিকে নিহতের পরিবারের সদস্য মন্নু ছেত্রী বলেন, “এটা কোনও সাধারণ মানুষ হলে পুলিশ গ্রেফতার করতে এত সময় লাগাত না। প্রভাবশালী বলেই পুলিশ গড়িমসি করছিল।”


Share