Fire Incident

উলুবেড়িয়ার নর্থ জুট মিলে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই কোটি টাকার সামগ্রী, একই দিনে আগুন লাগল নরেন্দ্রপুরের একটি কারখানাতেও

মিল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে দু'টি ঘটনাতেই এখনও পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর নেই।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০১:৪৮

মঙ্গলবার সকাল হতেই উদ্বেগ ছড়াল উলুবেড়িয়ার বাউড়িয়ায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ল নর্থ জুট মিল। সোমবার গভীর রাতে মিলের ভিতরে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে পাটে ভর্তি গোডাউন। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি পরিস্থিতি।

মিল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ নর্থ জুট মিলের বি-ওয়ান বিভাগ থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। যা নিরাপত্তারক্ষীদের প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়। প্রথমে তড়িঘড়ি মিলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভিতরে বিপুল পরিমাণ পাট মজুত ছিল।ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের বেল গোডাউনেও। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

খবর পেয়ে দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। রাতভর চলে আগুন নেভানোর লড়াই। দমকল কর্মীরা টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালায়। কিন্তু আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে গোডাউনের ভিতরে থাকা বিপুল পরিমাণ পাট, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মিল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বস্তির খবর, ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মিল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকেরা।

এদিকে, একই দিনে নরেন্দ্রপুরের একটি কালি তৈরির কারখানাতেও আগুন লাগার ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল জুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


Share