SIR Panic Death

আলিপুরদুয়ারে এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, মিষ্টি বিক্রেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

আলিপুরদুয়ারে মিষ্টি বিক্রেতা নৃপেন ঘোষের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। ঘটনায় রাজনৈতিক তর্ক ও ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৭

আলিপুরদুয়ারে এক মিষ্টি বিক্রেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় উঠে এসেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত আতঙ্কের প্রসঙ্গ। মৃতের নাম নৃপেন ঘোষ (৫২)। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় যেমন তাঁর নাম ছিল না, তেমনই খসড়া ভোটার তালিকাতেও নাম বাদ পড়েছিল। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থানার ছোট শালকুমার গ্রামপঞ্চায়েতের বাদাইটারি এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে নৃপেনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। দ্রুত তাঁকে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৮ বছর আগে অসম থেকে বাদাইটারিতে এসে বসবাস শুরু করেন নৃপেন। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাতেই থাকতেন তিনি। আগামী ৬ জানুয়ারি এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় গভীর দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

নৃপেনের স্ত্রী জোৎস্না ঘোষ জানান, ‘খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। আমি অনেক বুঝিয়েছি। ঘটনার সময়ে আমি বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে যে এমন সর্বনাশ দেখব ভাবতেও পারিনি। আতঙ্কেই শেষ হয়ে গেল মানুষটা।’

ঘটনার পরেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুভাষচন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির কারণে নিরীহ মানুষটিকে প্রাণ দিতে হলো। আমরা ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।’

অন্যদিকে, ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন বলেন, ‘ যে কোনও মৃত্যুই দুঃখের। তবে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর কথা ঠিক নয়। আমরা জানতে পেরেছি ওই ব্যক্তি আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন।’ ফালাকাটা থানার আইসি প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’


Share