Kolkata Municipal Corporation

অতি স্বল্প পরিমাণে বেড়েছে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, শহরে বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ যোগাতে ভরসা সিএসআর তহবিল, উদ্যোগী হলেন পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন

ঘটনায় পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, "অন্যান্য পুরসভা যেভাবে সিএসআর অর্থাৎ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি পায়, তত তহবিল কলকাতা পুরসভা পায় না। সীমিত সামর্থের মধ্যে আমরা এই কাজ করছি। ভবিষ্যতে এই সমীক্ষা যাতে আরোও বড় আকারে করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।"

উপস্থিত রয়েছেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।
বৈশালী কর্মকার, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৮

শহরজুড়ে সমীক্ষায় উঠে এসেছে বিরল রোগ। কিন্তু আগামী অর্থবর্ষে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে অতি সামান্য। তাই এই সমস্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ বহন করতে সিএসআর তহবিলেই ভরসা। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই এই কাজ আমরা করছি। যতটা পারব আমরা এই কাজ করব।

‘অর্গানাইজেশন ফর রেয়ার ডিজিজ ইন্ডিয়া’, ‘রেয়ার ওয়ারিয়র্স অফ বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন’ এই দুই সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘কল্যাণ নিরুপম যোজনা’। তাঁরা কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে সমীক্ষা চালায়। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৩০০টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁরা। তাঁদের কথায়, মোট ৫৯৫ জন আশাকর্মী, মেডিকেল অফিসার এবং সার্টিফিকেট জেনেটিক কাউন্সিলরেরা এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

সমীক্ষকদের দাবি, শুধুমাত্র প্রশ্নোত্তোরের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেখান থেকেই ৭২টি বিরল রোগে আক্রান্ত পরিবারের কথা জানতে পারে পুরসভা। পরবর্তীকালে সেই ৭২টি পরিবার থেকে ১১ জন বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাঁরা এ-ও দাবি করেছে, এই বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে এই সংগঠনটি। পাশাপাশি সেই রোগীদের যাতে জেনেটিক কাউন্সিলর সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় তা-ও দেখা হচ্ছে।

পুরসভার কোষাগারে টান রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালের স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতে বাজেটে ১৮০.০৫ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্ধবর্ষের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হয়েছে ১৮৩.৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সাড়ে তিন কোটি টাকা বেড়েছে। ফলে বাড়তি খরচে যে রাশ টানা প্রয়োজন তা মেনে নিচ্ছেন পুরসভার এক আধিকারিক। 

তাই এই বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিএসআর তহবিলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে। এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রনিতা সেনগুপ্ত-সহ, ‘অর্গানাইজেশন অফ রেয়ার ডিজিস ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা’ শিখা মাহাত্রমণী। ওআরডিআই এর প্রতিষ্ঠাতা শিখা মেহেত্রামণী বলেন, “সমীক্ষাটি চলাকালীন আশাকর্মীদের প্রথমে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল। তারা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে এই সমীক্ষাটি সম্পন্ন করেছে।”

ঘটনায় পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, "অন্যান্য পুরসভা যেভাবে সিএসআর অর্থাৎ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি পায়, তত তহবিল কলকাতা পুরসভা পায় না। সীমিত সামর্থের মধ্যে আমরা এই কাজ করছি। ভবিষ্যতে এই সমীক্ষা যাতে আরোও বড় আকারে করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।" তিনি উদ‍্যোগ নিয়ে সিএসআর তহবিল জোগাড় করবেন বলেও আশ্বাস দেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ।


Share