Tea Garden

ফের হাসি ফুটতে চলেছে ডুয়ার্সের চা বাগানের শ্রমিকদের, ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হতে চলেছে দেবপাড়া চা বাগান

সোমবার জলপাইগুড়িতে মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আয়োজিত একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাগান খোলার খবরে দীর্ঘ অভাব-অনটনের পর ১১৭৪ জন স্থায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারে খুশির হাওয়া বইছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডুয়ার্স
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৪

দার্জিলিং আর ডুয়ার্সের নাম শুনলে প্রথমেই চা বাগানের কথা মনে পড়ে। কিন্তু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক চা বাগানই প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে কর্মহীন হয়েছে অনেক শ্রমিকরা। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই ডুয়ার্সের চা কর্মীরা সুখবর পেয়েছে। দীর্ঘ চার মাসের কর্মহীনতার জীবন কাটিয়ে ফের কাজে ফিরতে চলেছেন তাঁরা। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বানারহাটের দেবপাড়া চা বাগান ফের সচল হতে চলেছে।

সোমবার জলপাইগুড়িতে মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আয়োজিত একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাগান খোলার খবরে দীর্ঘ অভাব-অনটনের পর ১১৭৪ জন স্থায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারে খুশির হাওয়া বইছে।

চা বাগানের শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে দন্দ্ব ও অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে গত ২২ সেপ্টেম্বর দেবপাড়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মালিকপক্ষ চা বাগান ছেড়ে চলে যায়। এর ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত চার মাস ধরে একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সমাধানসূত্র মিলছিল না। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোতে আর্থিক সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছিল।

সোমবার মালিকপক্ষের সংগঠন আইটিপিএ-র (ITPA) জলপাইগুড়ি কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠকে জট কাটে। আইটিপিএ-র উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, “অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বাগান সচল রাখতে শ্রমিকরা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।” সেই বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেবপাড়া চা বাগানের মালিক শুভঙ্কর মিত্তাল, ম্যানেজার উত্তম সেনগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল সোনার, সাধারণ সম্পাদক রবীন রাই, ভারতীয় টি ওয়ার্কাস ইউনিয়নের জয়রাজ বিশ্বকর্মা এবং চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা তিলক ছেত্রী-সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ৫ তারিখ থেকে চা বাগান খুললেও বকেয়া কাজ ও গতি ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের আশা, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের এই সমঝোতা ডুয়ার্সের অন্যান্য বাগানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।


Share