Political Clash

দিনহাটায় ‘অপহরণ করে দলবদল’! ভারতীয় জনতা পার্টি নেতার বিস্ফোরক অভিযোগে চাপে তৃণমূল কংগ্রেস

তাঁর অভিযোগ, সোমবার রাতে বাজারে যাওয়ার পথে কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিনহাটা-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দীপককুমার ভট্টাচার্যের বাড়িতে। সেখানে বহু কর্মীর উপস্থিতিতে তাঁর হাতে তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি কমলের।

তৃণমূল কার্যালয়ে কমল বর্মণ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা
  • শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:১২

বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে অপহৃত হওয়ার অভিযোগ তুললেন কোচবিহারের এক বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জোর করে তাঁকে তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

দিনহাটার বাসিন্দা কমল বর্মণ বর্তমানে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য। তাঁর অভিযোগ, সোমবার রাতে বাজারে যাওয়ার পথে কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিনহাটা-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দীপককুমার ভট্টাচার্যের বাড়িতে। সেখানে বহু কর্মীর উপস্থিতিতে তাঁর হাতে তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি কমলের।

মঙ্গলবার কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়ে কমল বর্মণকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা সম্পাদক অজয় রায়। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘আমাদের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি কমল বর্মণ বাড়ি থেকে বাজারে যাচ্ছিলেন। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁর পথ আটকান। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তৃণমূলে যোগদান করিয়েছেন। কিন্তু কমল বিজেপির সঙ্গেই আছে।’’ তাঁর আরও দাবি, এই ঘটনার পিছনে জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মদত রয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলেন তিনি।

কমল বর্মণের কথায়, ‘‘আমি নিগমনগর বাজারে ওষুধ আনতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে অপহরণ করা হয়। মারধর করা হয়েছে। তার পর স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি আমাকে রিভলভার দেখিয়ে দীপক ভট্টাচার্যের বাড়িতে নিয়ে যান। প্রায় ২০০ জন তৃণমূলকর্মীর সামনে আমার হাতে তৃণমূলের পতাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।’’ তিনি আরোও বলেন, ‘‘আমি প্রাণের ভয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি বিজেপিতে ছিলাম, বিজেপিতেই আছি।’’

অন্যদিকে, দিনহাটা-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দীপককুমার ভট্টাচার্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘ডাহা অসত্য বলছেন কমল বর্মণ। গতকাল (সোমবার) রাতে উনি নিজেই আমার কাছে এসে তৃণমূলে যোগ দিতে চান। উনি বলেছিলেন, বিজেপিতে গুরুত্ব পাচ্ছেন না।’’ তিনি আরোও বলেন, ‘‘আমি দলের সদস্যদের ডেকে আলাপ-পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। কমল নিজেই তৃণমূলে যোগদান করেন।’’

এমন অভিযোগের কারণ কী? তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোট সামনে। তাই প্রচারের জন্য এ সব করছে বিজেপি। বাজারের কাছ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল এবং সেটা আর কেউ দেখল না, এটা অসম্ভব। পাশাপাশি, অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।


Share