Elephant

‘লুড়কা বাবা’ই গ্রামরক্ষক! এক দাঁতাল হাতিতেই কমেছে হাতির হানা

এই দাঁতালটির আকৃতিও বেশ বড়সড়। তাকে এলাকায় দেখলেই অন্য হাতিরা দূরে থাকে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। হস্তী বিশারদ পার্বতী বড়ুয়ার কথায়, 'হাতি সংবেদনশীল প্রাণী। মানুষ কোনও ক্ষতি করবে না বুঝতে পারলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব।'

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, লাটাগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪০

এক সময় হাতির হানায় তটস্থ থাকতেন লাটাগুড়ি ও গোরুমারা জঙ্গল সংলগ্ন মেটেলি ব্লকের বিছাভাঙা ও সুরশ্রুতি বনবস্তির বাসিন্দারা। ফসল নষ্ট থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর-প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। হাতির আক্রমণ ঠেকাতে গ্রামের যুবকদের টর্চ ও মশাল নিয়ে রাত জাগা পাহারা দিতে হত। তবে গত দু’বছরে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। কারণ, এলাকায় নিয়মিত আসা এক পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতি যেন অঘোষিত ‘পাহারাদার’-এর ভূমিকা নিয়েছে। তার উপস্থিতিতেই অন্য হাতির দল আর গ্রামে ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয় আদিবাসীরা আদর করে তার নাম দিয়েছেন ‘লুড়কা বাবা’, অর্থাৎ যে নিজের মতো চলে।

এই দাঁতালটির আকৃতিও বেশ বড়সড়। তাকে এলাকায় দেখলেই অন্য হাতিরা দূরে থাকে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। হস্তী বিশারদ পার্বতী বড়ুয়ার কথায়, 'হাতি সংবেদনশীল প্রাণী। মানুষ কোনও ক্ষতি করবে না বুঝতে পারলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব।'

জলপাইগুড়ি বনবিভাগের ডিএফও বিকাশ ভি জানান, পূর্ণবয়স্ক দাঁতালরা অনেক সময় ‘লোনার’ হয়ে একা থাকতে পছন্দ করে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় বিচরণ করে। সম্ভবত এই হাতিটিও এলাকার পরিবেশ ও মানুষের আচরণের সঙ্গে পরিচিত হয়ে পড়েছে। ন্যাফের মুখপাত্র অনিমেষ বসুরও মত, 'বয়সের কারণে অনেক হাতি একা থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সেক্ষেত্রে তারা নিজস্ব একটি এলাকা তৈরি করে নেয়।'

এই দুই বনবস্তিতে দুই শতাধিক পরিবারের বাস। প্রবীণ বাসিন্দা রাতি ওরাওঁ বলেন, প্রায় দু’বছর আগে প্রথম এই দাঁতালটিকে দেখা যায়। প্রথমে কলা ও কাঁঠালগাছের পাতা খেতে এলেও পরে লক্ষ্য করা যায়, তার পর থেকেই অন্য হাতির আনাগোনা কমেছে। বড় ক্ষয়ক্ষতিও আর হয়নি। বাসিন্দা শ্যামল ওরাওঁর কথায়, আগে হাতির ভয়ে রাতের ঘুম উড়ত, এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। হাতিটিও কখনও তেড়ে আসে না, গ্রামবাসীরাও তাকে বিরক্ত করেন না।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও যৌথ বন পরিচালন কমিটির সদস্য সুবল পাইক মনে করেন, এই দাঁতালের উপস্থিতিই অন্য হাতিদের দূরে রাখছে। সম্প্রতি গোরুমারায় একটি হাতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা তাদের ‘পাহারাদার’-এর কিছু হয়েছে ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। পরে জানা যায়, মৃত হাতিটি অন্য ছিল। লাটাগুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত জানান, 'কয়েক দিন আগে গোরুমারায় একটি হাতির মৃত্যু হয়। তাঁদের 'পাহারাদার' মারা গিয়েছে ভেবে বিছাভাঙার বাসিন্দাদের মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সেটি অন্য হাতি জানার পরে তাঁদের স্বস্তি মেলে।'


Share