Bridge Collapse

টানা বর্ষণে ভয়াবহ ভাঙন! দক্ষিণ দিনাজপুরে তিন গ্রামের একমাত্র লোহার সেতু বিপজ্জনক অবস্থায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা

খাঁড়িটির সঙ্গে আত্রেয়ী নদীর সংযোগ থাকায় নদীর জলস্তর বাড়লেই তীব্র স্রোতে ভাঙন আরও বৃদ্ধি পায়। গত দু'দিনের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র দু'দিনেই প্রায় এক বিঘা জমি খাঁড়ির গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।

ভাঙনের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন লোহার সেতু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০৩:৪৫

টানা বর্ষণের জেরে ভাঙনের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন তিনটি গ্রামের একমাত্র লোহার সেতু। গত দু'দিনের ভারী বৃষ্টিতে বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফতেপুর এলাকায় কাশিয়া খাঁড়ির একাংশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের জেরে সেতুর একটি পিলারের নীচের মাটি ও বালি সরে যেতে শুরু করায় সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনও সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। যদিও তাঁদের অভিযোগ, অতীতেও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশিয়া খাঁড়ির উপর দীর্ঘদিন আগে বিএসএফের উদ্যোগে এই লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সেতুর উপর নির্ভরশীল। সেতুর ওপারে রয়েছে ভাতশালা, ফতেপুর ও বাদমুল্লুক এই তিনটি গ্রাম। প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সেতুই। পাশাপাশি ফতেপুর বিএসএফ বিওপিতে কর্মরত জওয়ানেরাও এই পথেই নিয়মিত যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই থেকে তিন বছর ধরেই কাশিয়া খাঁড়িতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। খাঁড়িটির সঙ্গে আত্রেয়ী নদীর সংযোগ থাকায় নদীর জলস্তর বাড়লেই তীব্র স্রোতে ভাঙন আরও বৃদ্ধি পায়। গত দু'দিনের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র দু'দিনেই প্রায় এক বিঘা জমি খাঁড়ির গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নিরঞ্জন হালদার ও সুজিত রায় জানান, গত কয়েক বছরে ভাঙনের জেরে প্রায় ১০ বিঘা জমি খাঁড়ির গর্ভে বিলীন হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেতুর একটি পিলারের নীচ থেকে প্রচুর মাটি সরে গিয়েছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বালুরঘাটের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, চরম দুর্ভোগে পড়বেন হাজার হাজার মানুষ।


Share