Illegal Construction

অনুমোদন তিনতলার, নির্মাণ পাঁচতলা! আলিপুরদুয়ারে বহুতল, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় একের পর এক অনিয়ম, ১৮টি ভবনকে দমকলের নোটিশ

আলিপুরদুয়ার দমকলের ভারপ্রাপ্ত ওসি রাজীব দাস বলেন, ‘পরিদর্শনে গিয়ে কোনও ভুলত্রুটি ধরা পড়লে মালিকদের দমকলের গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেকে অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।’

আলিপুরদুয়ারে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দমকলের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০২:৫৭

কোথাও অনুমোদিত নকশার সঙ্গে মিল নেই নির্মাণের, কোথাও আবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ছাদের উপর তৈরি হয়েছে সুইমিং পুল। আলিপুরদুয়ার শহরের একাধিক বহুতল, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ঘিরে এমনই একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। দমকলের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে উঠে এসেছে, বহু ভবনেই অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কোথাও তিনতলার অনুমতি থাকলেও নির্মাণ হয়েছে পাঁচতলা পর্যন্ত। আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে অনুষ্ঠান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই শহরের প্রায় ১৮টি হোটেল ও ভবনকে নোটিশ পাঠিয়েছে দমকল কর্তৃপক্ষ। যদিও অভিযোগ, অতীতেও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান হয়নি।

আলিপুরদুয়ার দমকলের ভারপ্রাপ্ত ওসি রাজীব দাস বলেন, ‘পরিদর্শনে গিয়ে কোনও ভুলত্রুটি ধরা পড়লে মালিকদের দমকলের গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেকে অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।’

এ দিকে, এত অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন মিলল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার ইউজেন মোক্তানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

পর্যটন ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ার শহরে গত কয়েক বছরে হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ভিড় হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা পর্যাপ্ত, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

দমকলের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অনেক বহুতলেই সিঁড়ির পরিসর অত্যন্ত সংকীর্ণ। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে বাইরে বের করে আনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দুই বা তিনতলার অনুমতি নিয়ে সেই অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও পরে চার বা পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অথচ সেই অতিরিক্ত অংশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

আরও উদ্বেগের বিষয়, শহরের একটি হোটেলের ছাদে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নিরাপত্তা বিধি ছাড়াই সুইমিং পুল নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছেন দমকল আধিকারিকরা। নিয়ম অনুযায়ী ছাদে সুইমিং পুল নির্মাণের জন্য বিশেষ অনুমতি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক। কারণ, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল পরিমাণ জলের চাপ ভবনের স্থায়িত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব হোটেল ও অনুষ্ঠানবাড়িতে একসঙ্গে বহু মানুষের সমাগম হয়, সেখানে বিকল্প নির্গমন পথ ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু শহরের অধিকাংশ ভবনেই প্রধান প্রবেশপথ ছাড়া অন্য কোনও কার্যকর বিকল্প রাস্তা নেই। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে লোহার জরুরি সিঁড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে শুধু সেই উদ্যোগে নিরাপত্তার ঘাটতি কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটছে না।


Share