Earthquake After Effect

মৃত্যুমিছিল থামছে না ভেনেজুয়েলায়! ২৩৫ জনের প্রাণহানি, আহত চার হাজার ৩০০, জরুরি অবস্থার মধ্যেই চলছে উদ্ধার অভিযান

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রড্রিগেজ জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া অন্তত ২৫০টি বহুতলের ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও ২০০-রও বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন। পাশাপাশি, ১৫৭ জন এখনও নিখোঁজ।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত ২৩৫।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভেনেজুয়েলা
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ১১:৩২

পর পর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৩৫। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা ২৩৫ জনের অধিকাংশকেই চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জোড়া ভূমিকম্পের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে। ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রড্রিগেজ জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া অন্তত ২৫০টি বহুতলের ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও ২০০-রও বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন। পাশাপাশি, ১৫৭ জন এখনও নিখোঁজ।

সরকারি প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যারিবিয়ান উপকূলের বন্দরনগরী লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের উত্তরাংশ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও বন্ধ। ইতিমধ্যেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আতঙ্কে বহু মানুষ খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। স্কুলগুলিও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, কারণ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে পরিণত করা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আমেরিকা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, পর্তুগাল, কাতার ও কানাডা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহযোগিতা করছে। আমেরিকার দু’টি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া, ইলন মাস্ক ঘোষণা করেছেন যে ‘স্টারলিঙ্ক’ আগামী এক মাস ভেনেজুয়েলায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা দেবে।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজ়ুয়েলায়। প্রথমটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫। সরকারের দাবি, গত একশো বছরের মধ্যে এটি দেশের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। যদিও ভেনেজুয়েলা একাধিক ফল্ট লাইনের কাছে অবস্থিত, তবু দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় সেখানে এ ধরনের প্রবল ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল। অন্য দিকে, মেক্সিকো, চিলি-সহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলি ‘রিং অব ফায়ার’ ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্গত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প এই ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে ঘটে। 


Share