Protest

শশাঙ্ক বিল ভরাট ঘিরে বিতর্ক, পরিদর্শনে গিয়ে বাধার মুখে বিএলআরও আধিকারিক, পরিবেশপ্রেমীদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে জলাভূমিতে মাটি ফেলে নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে প্রশাসন, আর বিল রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

পরিদর্শনে বিএলআরও আধিকারিক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০২:১৩

বর্ধমান শহরের ঐতিহ্যবাহী শশাঙ্ক বিল। সেই বিল ভরাটের অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনের আগের নির্দেশ সত্ত্বেও গত প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে জলাশয়টি ভরাটের কাজ চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশপ্রেমীরা অভিযোগ তুলেছেন।

জানা গিয়েছে, এই জলাশয় আনন্দপল্লি, শ্রীপল্লি, জিটি রোড ও ২ নম্বর ইছলাবাদ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ৩০০ বিঘা আয়তনের এই জলাশয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমান শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে পরিচিত। বুধবার অভিযোগের ভিত্তিতে বিএলআরও দফতরের আধিকারিক এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা তথা কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দারের সঙ্গে প্রোমোটার সংস্থার প্রতিনিধিদের বচসাও হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় বিএলআরও আধিকারিক প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

স্থানীয়দের দাবি, ব্রিটিশ আমল থেকে শশাঙ্ক বিল শহরের জলধারণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে। বাঁকা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই জলাভূমি বর্ষার সময় অতিরিক্ত জল ধরে রেখে শহরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। অভিযোগ, সেই জলাভূমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাশয়ের চরিত্র পরিবর্তন করে শালিজমি হিসেবে নথিভুক্ত করার পর বহুতল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে জল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি-সহ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

এই জলাভূমিকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে বর্ধমান পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান স্বরূপ দত্ত অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সরকারি দফতরে 'নো অবজেকশন' সংক্রান্ত নথি জমা দিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।

পরিবেশবিদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আশুতোষ পালের মতে, শশাঙ্ক বিল নষ্ট হলে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই বিঘ্নিত হবে না। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে এলাকার জীববৈচিত্রও। এই জলাভূমিতে প্রতিবছর বহু পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। পাশাপাশি নানা ধরনের জলজ ও স্থলজ প্রাণীরও এটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

শশাঙ্ক বিল রক্ষার দাবিতে পরিবেশপ্রেমী ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্য দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


Share