Drug Smuggling

জাল নথি তৈরি করে অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাস নাইজেরিয়ার ব‍্যক্তির, গ্রেফতার চণ্ডীগড়ের মাদক মামলায় ‘ঘোষিত অপরাধী’, পেশ করা হল আদালতে

দ্বারকার ডেপুটি কমিশনার কুশলপাল সিংহ জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’-এর মূল লক্ষ্য হল ভারতে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বিদেশিদের শনাক্ত করা। তাঁদের অপরাধমূলক অতীত যাচাই করা। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই অভিযানের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও মাদক বা অন্য কোনও সামগ্রী উদ্ধার হয়নি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৯

অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ এক নাইজেরিয়ার নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এই নাইজেরিয়ার নাগরিককে চন্ডীগড়ের একটি মাদক পাচার মামলায় ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নিজের পরিচয় গোপন এবং পুলিশের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে জাল ভারতীয় কাগজপত্রও তৈরি করে ছিল দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। তাঁকে চন্ডীগড় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

ধৃতের নাম ধৃতের নাম মাইকেল উইলফ্রেড এম বোনু ওরফে ড্যানিয়েল মার্টন। বয়স ৪৫ বছর। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ অবৈধ ভাবে কারা এ দেশে বসবাস করছে এমন বিদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করতে ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ শুরু করেছে। উইলফ্রেডের গ্রেফতারি এর অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দ্বারকা জেলার মাদক পাচার দমন শাখার আধিকারিকেরা প্রযুক্তিগত নজরদারি চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তমনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজেকে ড্যানিয়েল মার্টন বলে পরিচয় দেয়। সে একটি পাসপোর্ট এবং ভিসার রঙিন ফটোকপি দেখায়। দাবি করে, নথিগুলি ২০২৭ সালের ৩ জুন পর্যন্ত বৈধ রয়েছে বলে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে স্বীকার করে যে, চণ্ডীগড়ে একটি মাদক পাচার মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই মামলার বিচার এখনও চলছে। এরপর দিল্লি পুলিশ চণ্ডীগড় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। চণ্ডীগড় পুলিশ অভিযুক্তের বিবরণ পাঠানোর পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় মাইকেল উইলফ্রেড এম বোনু। ২০১৯ সালে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩১ থানায় মাদক পাচার মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় গত ২০২১ সালের অগস্টে চণ্ডীগড় আদালত উইলফ্রেডকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

পুলিশের বক্তব্য, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে অভিযুক্ত জাল ভারতীয় কাগজপত্র তৈরি করেছিল। তৈরি করেছিল, জাল পাসপোর্ট এবং ভিসাও। পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই এই কাজ করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দিল্লি পুলিশ চণ্ডীগড় পুলিশের সংশ্লিষ্ট দফতরকে বিষয়টি জানায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চণ্ডীগড় পুলিশের একটি দল দিল্লিতে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে।

দ্বারকার ডেপুটি কমিশনার কুশলপাল সিংহ জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’-এর মূল লক্ষ্য হল ভারতে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বিদেশিদের শনাক্ত করা। তাঁদের অপরাধমূলক অতীত যাচাই করা। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই অভিযানের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও মাদক বা অন্য কোনও সামগ্রী উদ্ধার হয়নি।


Share