Arms Seized

অন্ডালে পরিত্যক্ত আবাসন থেকে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, মিলল ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে ইসিএলের পরিত্যক্ত কর্মী আবাসন থেকে ১৫টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করল পুলিশ। ধৃত দুই অস্ত্র কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরাসকোলের পদ্মাবতী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মেলে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, অন্ডাল
  • শেষ আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৫

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে পরিত্যক্ত একটি কর্মী আবাসন থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করল পুলিশ। একটি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) ওই পরিত্যক্ত আবাসন থেকে মোট ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মেলে বলে এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে।

কয়েক দিন আগে অস্ত্র কারবারের অভিযোগে খইরুল আলম চৌধুরী এবং সামশের হোসেন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অন্ডাল থানার পরাসকোল এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। পদ্মাবতী মন্দিরের কাছে ইসিএলের একটি পরিত্যক্ত কর্মী আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও কার্তুজগুলি উদ্ধার হয়।

এসটিএফ সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত জুলাই মাসে। জামুড়িয়ার কেন্দা বেলবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে খইরুল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পাণ্ডবেশ্বরের ডালুর বাঁধ এলাকার বাসিন্দা ওই যুবকের কাছ থেকে দু’টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একটি বড় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এর পর খইরুলকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চলতি মাসের শুরুতে ঝাড়খণ্ডের রাঁচী থেকে সামশের হোসেন নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে অন্ডালের পরাসকোল এলাকার পরিত্যক্ত আবাসনটির সন্ধান পান তদন্তকারীরা।

শনিবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে চারটি ৯ এমএম পিস্তল, সাতটি .৩২ বোরের পিস্তল, একটি .৩৮ রিভলবার এবং তিনটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ৫৬ রাউন্ড কার্তুজও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই অস্ত্র পাচার চক্রের যোগাযোগ বিহার ও ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারেন বলে মনে করছেন এসটিএফ আধিকারিকেরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই সমস্ত ব্যক্তির সন্ধান এবং গোটা চক্রের গতিবিধি জানার চেষ্টা চলছে।


Share