Surendranath College

সাক্ষীদের ভয় দেখাবেন ‘কানকাটা দেবু’, সুরেন্দ্রনাথে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় শিয়ালদহের দেবাশিস বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল হাই কোর্ট

কলকাতা পুরসভার কর্মীরা ঘর পরিষ্কার করার কাজ করছিলেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ডে এবং ইভিনিং কলেজের প্রিন্সিপাল। ঘরটি পরিষ্কার করছিলেন। ওই ঘড়ে তৃণমূলের ইউনিয়ন রুম করা হয়েছিল। সেই সময় সময় টাকাভর্তি ব‍্যাগ উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:০১

বাইরে থাকলে সাক্ষ্য প্রমাণ নষ্ট হতে পারে। সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন। গত জুন নামে শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে পোকা ধরা টাকাভর্তি সুটকেস উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল শিয়ালদহের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করলে বিচারপতি তা খারিজ করে দিয়েছেন।

গত ২ জুন বিকেলে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে সুটকেসভর্তি টাকা উদ্ধার হয়। টাকাগুলির বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাতে ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট ছিল। ঘটনাস্থলে যায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় জামিন অযোগ্য ধারায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। এক ঠিকাদার গ্রেফতার হলেও দেবাশিসকে এখনও পুলিশ খুঁজে পায়নি।

গ্রেফতারি এড়াতে শিয়ালদহের তৃণমূল নেতা দেবাশিস কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আগাম জামিনের আবেদন জানান তিনি। শনিবার সেই মামলার শুনানি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে হয়েছে। রাজ‍্য সরকারের পক্ষ থেকে আগাম জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। সরকারের বক্তব্য, দেবাশিসের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। দেবাশিস এখনও প্রভাবশালী। তাই বাইরে থাকা সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন। বিচারপতি ঘোষ দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এই মামলায় দেবাশিসকে গ্রেফতার করতে আর কোনও বাধা রইল না।

উল্লেখ্য, কলেজের কর্মীরা সেদিন জানিয়েছিলেন, কলকাতা পুরসভার কর্মীরা ঘর পরিষ্কার করার কাজ করছিলেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ ডে এবং ইভিনিং কলেজের প্রিন্সিপাল। ঘরটি পরিষ্কার করছিলেন। ওই ঘড়ে তৃণমূলের ইউনিয়ন রুম করা হয়েছিল। সেই সময় সময় তা উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

শিয়ালদহ এলাকার তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এই কলেজ দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। কলেজকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বকলমে তাঁর ছেলে শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বেটু চালাতেন। তিনি কলকাতা হাই কোর্টের তৃণমূলপন্থী আইনজীবীও। এমনকী, তৃণমূল নেতার ছেলে শিবাশিষ ওই কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষকতার নামে সরকারি বেতন নিতেন। পাশাপাশি রাতুল ঘোষ, শুভজিৎ চক্রবর্তী এবং শুভজিৎ বর্মণ বলে তিন তৃণমূল কর্মীর নামেও অভিযোগ করছেন। শুভজিৎ চক্রবর্তী বেলেঘাটার বাসিন্দা। শুভজিৎ বর্মণ হাওড়ার বাসিন্দা। কলেজের ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ, রাতুল ঘোষ, শুভজিৎ চক্রবর্তী এবং শুভজিৎ বর্মণ টাকার বিনিময়ে তালিকায় জালিয়াতি করে ছাত্র ভর্তি করাত। এর সঙ্গে কলেজের একাংশের কর্মীও জড়িত ছিল। এই রাতুল ঘোষ অতীতেও কলকাতা গুন্ডা দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, এই রাতুল ঘোষ বৌবাজারে পূর্বরেল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কর্মীও। একাংশের দাবি, রাতুল তৃণমূল করার সুবাদে ওই ব‍্যাঙ্কে চাকরি পেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, পালাবদলের পরেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মুখ খুলতে হুমকি দিয়েছিল।


Share