Cyber Syndicate

ডেটিং অ্যাপ ও সমাজমাধ্যমে ‘প্রেমের ফাঁদ’, ঘনিষ্ঠ ছবি তুলে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ! উত্তরপ্রদেশের তরুণী পল্লবীর খোঁজে পুলিশ

অভিযোগকারীর দাবি, ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তরুণী ওই পুরুষদের সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি তাঁদেরই পাঠিয়েই ব্ল্যাকমেল শুরু হত। ছবি প্রকাশ্যে এনে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হত বলে অভিযোগ।

অভিযুক্ত তরুণী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০২:০৬

ডেটিং অ্যাপ ও সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা আদায় এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। প্রয়াগরাজ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত তরুণীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, অভিযুক্ত তরুণীর নাম পল্লবী সিংহ রাজপুত। হাই কোর্টের এল আইনজীবী তরুণীর বিরুদ্ধে যৌনতার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ, ওই তরুণী তাঁর রূপ ও আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে একাধিক পুরুষকে প্রথমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াতেন। কখনও আবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। অভিযোগকারীর দাবি, ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তরুণী ওই পুরুষদের সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি তাঁদেরই পাঠিয়েই ব্ল্যাকমেল শুরু হত। ছবি প্রকাশ্যে এনে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হত বলে অভিযোগ। এ ভাবেই একাধিক পুরুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়াগরাজের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত তরুণীর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্ত তরুণীর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দাবির বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরোও অভিযোগ, দাবি মতো টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই ব্যক্তিদের পুলিশি ঝামেলা, জেল এমনকি খুনের হুমকিও দেওয়া হত। পুলিশ সূত্রে খবর, যাঁদের ‘টার্গেট’ করা হত, তাঁদের সম্পর্কে অভিযুক্ত তরুণী আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতেন। তার পর সমাজমাধ্যম কিংবা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করতেন। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর শুরু হত ব্ল্যাকমেলের পর্ব।

অভিযোগ, তিনি ফোনে প্রথমে নানা ধরনের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলতেন। পরে বিশ্বাস অর্জন করে ওই পুরুষদের ঘনিষ্ঠ হতে প্ররোচিত করা হত। সেই সুযোগে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিয়ো সংগ্রহ করে রাখা হত বলে অভিযোগ। এর পর সেই ছবি ও ভিডিয়ো দেখিয়ে টাকা চাওয়া হত। কেউ লাখ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মূলত বিত্তশালী ব্যক্তিরাই তাঁর নিশানায় থাকতেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগ, দাবি মতো টাকা না পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুনের চেষ্টা-সহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ দায়ের করার ভয় দেখানো হত। এমনকি তরুণীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে অন্তত পাঁচ জনকে জেলও খাটতে হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণী বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন নামে নিজের পরিচয় দিতেন। সমাজমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপে ‘সুইটি তিওয়ারি’ নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ। এ দিকে, পল্লবীর নামে একটি ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে বিছানার উপর ছড়িয়ে থাকা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের পাশে এক তরুণীকে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে (যদিও ছবিটির সত্যতা যাচাই করেনি এখন কলকাতা.কম) বন্দুক হাতে আরও একটি ছবিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছবিগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পল্লবীর সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে একা পল্লবী নন, একটি সংগঠিত চক্রও কাজ করতে পারে। ওই চক্রের সঙ্গে পল্লবীর যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।


Share