Birju Keot Case

হালিশহরে বিক্ষোভের জনরোষের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে ‘চোর’, ছোঁড়া হল কাদা, জুতো

তোলাবাজির অভিযোগে বিরজু কেওট নামে এক তৃণমূলকর্মীকে হালিশহর থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি ওই এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়।

হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁচড়াপাড়া
  • শেষ আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৫:০৪

হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিজেপির দাবি, তিনি এলাকায় উস্কানি দিতে এসেছিলেন। মৃতের পরিবার মমতাকে জানাল, তাঁরা পুলিশের ওপরে ভরসা করছে। তাঁরা বিচার ছাড়া আর কিছুই চাইছেন না। কিন্তু মমতার দাবি, স্থানীয় বিধায়ক সেখানে এসে ভয় দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।

বিজেপির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই এলাকায় উস্কানি দিতে এসেছেন। এলাকার মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। অন‍্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দিকে নিশানা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। পুলিশ লুম্পেনদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। রাজ‍্য লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা মামলা করব।” কার্যত অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “গাড়িতে বড় বড় পাথর ছোঁড়া হয়েছে। এখানেই আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে।” 

এ দিন দুপুরে বিরজু কেওটের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দোলা সেন, কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা ছিলেন। বীজপুরে রাস্তা দিয়ে ঢোকার পরেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে বিক্ষোভের জেরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা-জুতো ছোঁড়া হয়েছে। তাঁকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠেছে। ঘটনায় কল‍্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছে। মাফিয়াদের দিয়ে রাজ্য চালাচ্ছে।” 

উল্লেখ্য, তোলাবাজির অভিযোগে বিরজু কেওট নামে এক তৃণমূলকর্মীকে হালিশহর থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি ওই এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। সেই হেফাজতে থাকাকালীন বিরজুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওটের অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে পিটিয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। 

এ দিন তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বলেন দাদার সঙ্গে। মৃতের দাদা মমতাকে জানান, “স্থানীয় পুলিশের ওপর তাঁদের ভরসা আছে। বিচার হোক, এইটুকুই দাবি করছি।” এটা শুনেই কার্যত রাগের সুরে মমতা বলেন, “বিধায়ক এসে ভয় দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছে।” পাল্টা তৃণমূল কর্মীর দাদা বলেন, তাঁদের কেউ ভয় দেখাননি। 


Share