Death

মোবাইলে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলছিলেন স্বামী, দেখে ফেলায় ভাঙলেন ফোন! স্ত্রীকে বেঁধে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার সামিউল

মৃত্যুর পরই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। অভিযোগের ভিত্তিতে চুন্নির খাতুনের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়ার সন্দেহই মূল কারণ কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।

মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১১:২০

স্বামীর মোবাইলে কার সঙ্গে কথা হয়, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই সন্দেহ ছিল স্ত্রীর। পরে স্বামীর সঙ্গে অন্য এক তরুণীর সম্পর্কের কথা তিনি জানতে পারেন। অভিযোগ, সেই সন্দেহের জেরেই ভয়ঙ্কর পরিণতি হল। বধূকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের মানিকচক থানার নুরপুর পঞ্চায়েত এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ২০ বছরের চুন্নির খাতুনের মৃত্যু হয়। কয়েক দিন আগে সম্পূর্ণ দগ্ধ এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। অভিযোগের ভিত্তিতে চুন্নির খাতুনের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়ার সন্দেহই মূল কারণ কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।

অভিযুক্ত স্বামীর নাম সামিউল শেখ। তাঁর বাড়ি মালদহের মানিকচকের নুরপুরে। অন্য দিকে, চুন্নির বাপের বাড়ি বিহারের কাটিহারে। বছরখানেক আগে সম্বন্ধ করে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। চুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পরেই তিনি জানতে পারেন, সামিউল অন্য এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত। অভিযোগ, সেই সময় চুন্নির উপর সামিউল শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে সামিউল বাড়িতে বসে প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলছিলেন। বিষয়টি চুন্নির নজরে পড়তেই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। রাগের মাথায় চুন্নি স্বামীর মোবাইল ফোন আছাড় মেরে ভেঙে দেন। এর পরেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। চুন্নিকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে সামিউলের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চুন্নির মৃত্যু হয়।

অভিযোগ, মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়ার রাগে চুন্নিকে একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন সামিউল। বধূর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু তাঁকে উদ্ধার করার সময়ের মধ্যেই শরীরের অধিকাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২০ বছরের চুন্নিকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

চুন্নির বাপের বাড়ির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সামিউলকে গ্রেফতার করেছে। পেশায় ব্যবসায়ী সামিউলকে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনায় সামিউলের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চুন্নির দেওর আনেস শেখ, ননদ চামেলি বিবি এবং শাশুড়ি দিলনুর বিবি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তাঁরা তিন জন পলাতক।

চুন্নির আত্মীয়দের দাবি, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু গত তিন মাস ধরে পরিস্থিতির অবনতি হয়। তাঁদের অভিযোগ, সামিউল স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। প্রায়ই তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলতেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগেও একাধিক বার অশান্তি হয়েছে। তবে সেই অশান্তির পরিণতি যে এতটা ভয়াবহ হবে, তা তাঁরা কেউই ভাবতে পারেননি।


Share