Laskar-E-Taiba

হোটেলের খাওয়ার খেয়ে অসুস্থ হয় লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার, নমাজের আগেই পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি আজিজের মৃত্যু

২০০৫ সালে আল কায়দা ও তালিবানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকায় রাষ্ট্রসংঘ লস্কর-ই-তৈয়বার ওপর নিষেধাজ্ঞার আরোপ করে। এই প্রথম কোনও ইসলামিক জঙ্গি প্রকাশ্যে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

ইসলামিক জঙ্গিনেতা কারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৬:৫৪

অচেনা রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে মৃত্যু হল পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের এক শীর্ষ কমান্ডারের। মৃতের নাম কারি সৈয়দ আব্বুল কারি। আব্দুল লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ কমান্ডার ছিল। মসজিদের ভিতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আব্দুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিক কবে ঘটেছে তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুবা মসজিদে নমাজ পড়তে যাওয়ার আগে আব্দুল অচেনা রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিল। এর পর মসজিদের দিকে যায়। মসজিদের ঢোকার গেটে আব্দুল হঠাৎই পড়ে যায়। তার পরেই জ্ঞান হারায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ইসলামিক জঙ্গি আব্দুলকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ঠিক কী কারণে আব্দুল কারির মৃত্যু হল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এনডিটিভি ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ কমান্ডার ছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিকেশ হওয়া ইসলামিক জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করার বিষয়টি দেখত।

গত কয়েক দিন লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ ইসলামিক জঙ্গিনেতা কমান্ডার রিজওয়ান হানিফ স্বীকার করেছিলেন, গত তিন বছরে একাধিক সংগঠনের একাধিক সদস্য অজ্ঞাতপরিচয়ের গুলিতে নিহত হয়েছে। সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো সংবাদমাধ্যমে‍ ভাইরাল হয়। তার বক্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই আবার এমন ঘটনা ঘিরে পাকিস্তানের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই ভিডিয়োতে রিজওয়ানকে বলতে শোনা যায়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। গোটাটা ভারতের ওপরে চাপিয়ে দিয়ে জঙ্গিনেতা দাবি করে, “কাশ্মীরে ভারতীয় গোয়েন্দারা আমাদের লোকেদের শান্তিতে থাকতে দেয়নি।” ভাইরাল ভিডিয়োতে রিজওয়ান আরও বলে, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদে সংগঠনের সদস্যরা নিহত হয়েছে।

২০০৫ সালে আল কায়দা ও তালিবানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকায় রাষ্ট্রসংঘ লস্কর-ই-তৈয়বার ওপর নিষেধাজ্ঞার আরোপ করে। এই প্রথম কোনও ইসলামিক জঙ্গি প্রকাশ্যে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলেই লাহোরে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা সদস‍্য আমির হামজাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক জন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যমের দফতরের সামনে গুলি চালানো হয়। তার আগেও এই ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের একাধিক সদস্যকে প্রকাশ্য রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গুলি করে খুন করে পালিয়ে যায়। তবে এই বিষয় নিয়ে পাকিস্তানের তথাকথিত সংবাদমাধ্যম কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। 


Share