Halisahar Incident

‘অনেক চুরি করেছেন, চোর না শুনতে হলে কানে হেডফোন ব্যবহার করুন,’ হালিশহরের ঘটনা নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

আরজি কর কান্ডের দু’বছর পূর্তি উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পানিহাটিতে গিয়েছিলেন। সেখানে হালিশহরের ঘটনা নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক আক্রমণ করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ ০১:২৭

রবিবার দুপুরে মৃত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের পরিবার পুলিশের ওপরে আস্থা রেখেছে। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চায় না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জোর করে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেক চুরি করেছেন। তাই তাঁকে ‘চোর’ শুনতে হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার তোলাবাজির অভিযোগে হালিশহরে বিরজু কেওট নামে এক তৃণমূলকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি ওই এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। সেই হেফাজতে থাকাকালীন বিরজুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে দেখতে গিয়ে এলাকাবাসীর জনরোষের মুখে পড়তে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর গাড়িতে কাদা, জুতো ছোঁড়া হয়। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা ভুলে যান। পুলিশ লুম্পেনদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। রাজ‍্য লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা মামলা করব।” কার্যত অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “গাড়িতে বড় বড় পাথর ছোঁড়া হয়েছে। এখানেই আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে।”

এই ঘটনা নিয়ে মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তা সরকার প্রত্যাহার করেনি। তিনি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটির আধিকারিককে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, বীজপুরে কাউকে না জানিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন। তার পরেও পুলিশ সেখানে যথেষ্ট নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ছিল। ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে সেখানে বিশাল বাহিনী মোতায়েন ছিল।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশকে না জানিয়ে তিনি গিয়েছিলেন। পুলিশ যে বড় বন্দোবস্ত করেছে তা আমি দেখেছি। উনি এখনও ওই ক‍্যাটেগরিতে পড়েন কি না সন্দেহ আছে। কিন্তু আমাদের নির্দেশ আছে। তিনি ১৫ বছর রাজ্যের ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর বয়সও হয়েছে। তাই তাঁর নিরাপত্তা এবং পূর্ণ সম্মান রাখা উচিত। সেই কাজ পুলিশ করেছে। পুলিশ খারাপ কিছু করেনি।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাড়ির লোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকেননি। তিনি নিজে থেকেই সেখানে গিয়েছেন। তাঁর এ-ও দাবি, বাড়ির লোক পুলিশ প্রশাসনের ওপরে আস্থা রেখেছে। বাড়ির লোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তা মেনে না নিয়ে ভাবছেন, ‘দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকব’। মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর পরামর্শ, “আপনার কাছ থেকে কেউ যদি হস্তক্ষেপ চায় বা কেউ সাহায্য চায়, অবশ্যই করুন। এখন রাজ‍্যে উন্নয়নের সময়। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু কার্যত কটাক্ষের সুরে মমতাকে বলেন, “আপনি ওখানে (হালিশহর) ছুটির দিনে একটা আইনজীবীকে সঙ্গে করে নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়েছেন। এখন বাড়ির লোক বলছে, আমি ডাকিনি। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এতে যুক্ত হোন তা চাই না। আর উনি জোর করে ঢুকে বলছেন, লকআপে মেরে দিয়েছে। বিজেপি মেরে দিয়েছে। তার পরে মৃতের বাড়ির লোক বলছে, আমরা প্রশাসনের ওপরে সন্তুষ্ট। স্থানীয় পুলিশ বা সরকারই আমাকে বিচার দিতে পারবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার দিতে পারবেন না। অনেকটা কার্বাইড দিয়ে কাঁঠাল-আম পাকানোর মতো। জামাই ষষ্ঠীর আগে বেশি হয়।”

সেখানে কোনও বিজেপির ‘পরিচিত’ মুখ ছিল না। ছিল না কোনও বিজেপির পতাকাও। মুখ্যমন্ত্রী তা সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান। আরজি কর কান্ডের দু’বছর পূর্তি হয়েছে। সেই ঘটনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেন, “আপনি তো আজকে আরজি কর কান্ডের নির্যাতিতার বাড়িতে ক্ষমা চাইতে যেতে পারতেন। এই এলাকার ওপর দিয়েই তো গিয়েছেন। গলায় একটা গামছা নিয়ে যেতে পারতেন। গলায় গামছা দিয়ে বলতে পরিবারকে হাতজোড় করে বলতে পারতেন, রত্নাদি (রত্না দেবনাথ, পানিহাটির বিধায়ক) ক্ষমা করুন। আমার বিশ্বাস, রত্নাদি ক্ষমা করে দিতেন বা করতেন কি না জানি না। তা না করে আপনি বীজপুরে গিয়েছেন। আপনি আরজি করের তরুনীকে রাজ‍্য সরকারের হাসপাতালে মেরে ছিলেন। তখন প্রমাণ লোপাট করতে এসেছিলেন। ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনতে গিয়েছিলেন।”

এ দিন হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ‘চোর’ স্লোগান দেয় এলাকার বাসিন্দারা। তৃণমূল জমানার দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আর এত চুরি করেছেন, তাই ‘চোর’ তো আপনাকে শুনতেই হবে। হেলিকপ্টারে চড়লে যেমন হেডফোন লাগিয়ে দেয়, এর পর থেকে কানে সেটাই লাগিয়ে নেবেন। তাহলে ‘চোর’ শুনতে হবে না। এখন আপনার গাড়িতে কাদা মাখাবে না তো কি ফুল ছুঁড়বে?” 

মুখ‍্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গোটা ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিপুল জনরোষের’ মুখে পড়েছিলেন।


Share