Tulu Mondal

‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ, ১৪ অগস্টের মধ্যে আদালতে হাজিরার নির্দেশ সিউড়ি আদালতের

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসাবে গণ্য করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার তদন্তে টুলু মণ্ডলের জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য না মেলায় তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতেই আদালতের এই পদক্ষেপ।

পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ১০:০৭

‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার’ নোটিশ জারির নির্দেশ দিল সিউড়ি আদালত। বীরভূমের এই ব্যবসায়ী বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, পুলিশ তার কোনও হদিস এখনও পায়নি। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারীরা টুলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। কিন্তু তিনি ‘বেপাত্তা’ থাকায় এ বার আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ।

সোমবার আদালতে টুলুর বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ ‘রেড কর্নার’ নোটিশ জারির আবেদন জানায়। সিউড়ি আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ১৪ অগস্ট, শুক্রবারের মধ্যে টুলু মণ্ডলকে আদালতে হাজির হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসাবে গণ্য করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার তদন্তে টুলু মণ্ডলের জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য না মেলায় তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতেই আদালতের এই পদক্ষেপ।

সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে পুলিশ টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে। উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনাও। এই বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন টুলু। তাঁর কোথায় কোথায় সম্পত্তি রয়েছে, তা খুঁজে দেখতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। টুলুর একাধিক ঠিকানার পাশাপাশি তদন্তকারীরা তাঁর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও হানা দিচ্ছেন।

সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতে হাজিরা না দিলে টুলুকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসাবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তার পর তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপও করা হতে পারে। বিভাসের দাবি, টুলু গত পাঁচ বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব চুরি করেছেন।

এই মামলায় সোমবার পুলিশ টুলুর এক আত্মীয় রিপন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হয়। একই সঙ্গে এই মামলায় ধৃত আরও দুই অভিযুক্ত শেখ রিয়াজুল ইসলাম এবং শেখ নূর আলমকেও আদালতে হাজির করানো হয়। তিন জনকেই নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত তিন অভিযুক্তের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিন অভিযুক্তেরই নাম পাথর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের আইনজীবী রাফাউল হক প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধু তাঁর মক্কেলদেরই মামলায় জড়ানো হচ্ছে? তাঁর দাবি, পাথর সিন্ডিকেট সংক্রান্ত ঘটনায় যে সময়ে প্রশাসনিক পদে থাকা আধিকারিকেরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।


Share