Suvendu Adhikari

‘ওদের জেলে দেখতে চাই’, পুরনো মামলা নিয়ে কেশপুরে পুলিশ সুপারকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। সেখান থেকেই তিনি মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশপুর
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৬:১৪

‘ওদের জেলে দেখতে চাই’, পুরোনো মামলা নিয়ে কেশপুরের সভা থেকে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি ‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’ বলার জন্য বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরোনো মামলাগুলি খুঁজে বার করার নির্দেশ দিলেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কেশপুরে তাঁর সভায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটিও ফের খতিয়ে দেখার কথা বলেন। মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। সেখান থেকেই তিনি মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষুদিরামের জন্মভিটে মোহবনিতে ‘আত্মবলিদান দিবস’ উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধা জানাতে যান। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে হেলিকপ্টারে যাওয়ার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোলাঘাট থেকে সড়কপথে কেশপুরে পৌঁছোন তিনি। অনুষ্ঠানে তাঁর পাশে ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। কেশপুরের প্রসঙ্গ উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়কার ঘটনা টেনে আনেন। নিজেকে ‘অবিভক্ত মেদিনীপুরের সন্তান’ বলে উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অতীতের কোনও মুখ্যমন্ত্রী ১১ অগস্ট এই মহান বিপ্লবীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গিয়েছেন, এমন নজির নেই।’’ এর পরেই তিনি ‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ার কারণে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁদের হয়রানির অভিযোগ তোলেন। পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এসপি-কে বলে গেলাম, এখানে অনেকে অত্যাচার সহ্য করেছে ‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’ বলার জন্য। সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করবেন। আমি কিছুই ভুলিনি, কিচ্ছু না...।’’ ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় কেশপুরে তাঁর সভা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সেই সময় তাঁকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল আমায়। আমি এসেছিলাম। তবে মানুষ আসেনি। মাননীয় এসপি-কে বলব, আপনি ওই মামলাটা বার করবেন। যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের আমি জেলে দেখতে চাই।’’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃকভিটের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান শাহ। এ বিষয়ে তাঁর কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি বললাম, ১১ তারিখ আমার ওখানে যাওয়ার আছে। অনেক কিছু করারও আছে। উনি বললেন, ‘এটা তোমায় করতেই হবে’। আমি অমিত শাহজিকে ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি কেশপুরের মোহবনির কথা, বিপ্লবীর কথা জানেন এবং তাঁকে নিয়ে আমাকে উপদেশ দিয়েছেন।’’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসকের কাছ থেকে পাওয়া পরিকল্পনা এবং পরামর্শ মেনে ক্ষুদিরামের স্মৃতিতে একটি সংগ্রহশালা, একটি গ্যালারি, লেজার শো, অতিথি আবাস তৈরি হবে। তিনি বলেন, ‘‘এ জন্য ডিটেলস্ প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) করতে হবে। প্রাথমিক ভাবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করে গেলাম। বর্ষার মধ্যেই টেন্ডার করে অক্টোবর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আগামী বছর যেন এসে দেখতে পাই, কাজগুলো হয়ে গিয়েছে।’’

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ-ও বলেন, ‘‘যে পরিকল্পনা, তাতে পাঁচ কোটি টাকায় কিছু হবে না, আরও অর্থ লাগবে। কিন্তু অর্থ বাধা হবে না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে অনেক কাজ করতে হবে। কারণ, ৩৪ বছরে বামফ্রন্টের রাজত্ব। তার পর ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস রাজত্ব। তারা না দিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান, না তুলে ধরেছে আমাদের রাষ্ট্রবাদের অতীত ইতিহাস!’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে শুধু মুখ, দল, ঝান্ডার পরিবর্তন নয়, ব্যবস্থার পরিবর্তনও দেখতে পাবেন মানুষ। 


Share