Air India Flight

ফুকেত থেকে দিল্লি, মাঝপথেই ভয়াবহ বিপত্তি! হঠাৎ ৩০০ ফুট নীচে নামল এআই২৩৭৯, অটোপাইলট ও হাইড্রোলিক নিয়ে প্রশ্ন

পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝ-আকাশে আচমকাই অটোপাইলট ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে বিমানের অভিমুখ ও উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহকারী পাইলট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৫:০৬

ফুকেত থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার পথে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ‘এআই২৩৭৯’। কী কারণে মাঝ-আকাশে এমন ঘটনা ঘটল, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে দু’টি সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে। একটি, বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় গোলযোগ। অন্যটি, অটোপাইলট প্রযুক্তির সঙ্গে বিমানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝ-আকাশে আচমকাই অটোপাইলট ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে বিমানের অভিমুখ ও উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহকারী পাইলট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সেই প্রচেষ্টার মধ্যেই বিমানে আরও কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয় বলে সূত্রের দাবি। এমনকি ককপিটে থাকা পাইলটের স্ক্রিনে বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সতর্কবার্তাও ভেসে ওঠে।

বিমানের দিক ও উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে হাইড্রোলিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানে এই ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেনি। তবে দুর্ঘটনার নেপথ্যে পাইলটের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাইলট ‘ডোপ টেস্টে’ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে উড়ানের সময় তিনি মত্ত বা কোনও মাদক গ্রহণ করেছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ‘ডোপ টেস্ট’ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও তথ্য জানায়নি এয়ার ইন্ডিয়া।

পাইলটের সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ আলাদা ভাবে তদন্ত করছে। পাশাপাশি অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) দুর্ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি ও কারণ খতিয়ে দেখছে এয়ারক্র্যাফ্ট। এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটি ফরাসি সংস্থা এয়ারবাসের তৈরি। এ৩২০ মডেলের বিমানটি কী ভাবে মাঝ-আকাশে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ল, তা জানতে তদন্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে পারে বিমানটির প্রস্তুতকারক এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা বিইএ।

গত মঙ্গলবার এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেত-দিল্লি এআই২৩৭৯ বিমানটি আচমকাই তীব্র ঝাঁকুনির মুখে পড়ে। ফুকেত থেকে উড়ানের সময় কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিমানের গতিপথে পরিবর্তন আসে। পাইলট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, তীব্র ‘এয়ার টার্বুল্যান্স’-এর কারণেই এই বিপত্তি। আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনের জেরে আকাশে এমন ঝাঁকুনি তৈরি হতে পারে। সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলে পাইলট আগে থেকেই যাত্রীদের সতর্ক করেন। কিন্তু দিল্লিগামী ওই বিমানের ক্ষেত্রে তেমন কোনও সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে কী কারণে আচমকা বিমানের অবস্থান বদলে গেল, তা নিয়ে তদন্তে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের এই আচমকা নেমে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রী ও বিমানকর্মী মিলিয়ে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। কারও মাথায় চোট লেগেছে, আবার কারও কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে।


Share