Suvendu Adhikari

সরকার বদল হতেই বড় দায়িত্বে দময়ন্তী সেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতন নিয়ে কমিশন গঠন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

জানা গিয়েছে, এই তথ্য সংগ্রহের জন্য দুই কমিশনের সদস্য সচিবেরা জেলায় জেলায় বিভিন্ন থানায় যাবেন। এলাকা ঘুরে ঘুরে তাঁরা বয়ান সংগ্রহ করবেন। জন শুনানির মতো থানাতেও অভিযোগ নেবে এই কমিশন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৫০

তৃণমূলের জমানায় রাজ‍্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশন তৈরি করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ক‍্যাবিনেট বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দু’জন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এই কমিশনে নেতৃত্ব দেবেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ১ জুন থেকে এই তদন্ত কমিটি কাজ করা শুরু করবে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার নেতৃত্ব দেবেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সিনিয়র আইপিএস অফিসার কে জয়রামনকে এই কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে। কে জয়রামন বর্তমানে উত্তরবঙ্গের এডিজি পদে রয়েছেন। 

নারী এবং শিশুদের ওপর নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনের সদস‍্যসচিব করা হয়েছে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনকে। তিনি বর্তমানে এডিজি (আমর্ড ফোর্স)-এ কর্মরত রয়েছেন। পার্ক স্ট্রিটে ধর্ষণকান্ডের পরেই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে আর কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দময়ন্তী ফিরতে পারেননি। পালাবদল হতেই এমন দুঁদে আইপিএস অফিসারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

জানা গিয়েছে, এই তথ্য সংগ্রহের জন্য দুই কমিশনের সদস্য সচিবেরা জেলায় জেলায় বিভিন্ন থানায় যাবেন। এলাকা ঘুরে ঘুরে তাঁরা বয়ান সংগ্রহ করবেন। জন শুনানির মতো থানাতেও অভিযোগ নেবে এই কমিশন। নির্দিষ্ট কয়েকটি মামলা ছাড়া অন্য মামলা দেখা হবে এখানে। প্রয়োজনে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া মামলাও খতিয়ে দেখা হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই কমিটি সুপারিশ করা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কমিশনের কাজের জন্য জেলা থেকে কাউকে কলকাতায় আসতে হবে না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য গঠিত এই কমিশনকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক, পরিকাঠামোগত সাহায্য দেবেন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব। প্রয়োজনীয় লোকবল এবং নথিপত্র দিয়েও সহযোগিতার কথা বলেন তিনি।

গত সপ্তাহের মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছিলেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতন নিয়ে রাজ‍্যের আলোচনা হবে। নারী নির্যাতন এবং তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে পদক্ষেপ করবে বিজেপি, তা ভোটপ্রচারে জানিয়েছিল। সরকারে আসতেই সেই প্রতিশ্রুতির পূরণ করে দিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারি প্রকল্পের টাকা যে নয়ছয় করেছে তৃণমূল পরিচালিত সরকার, তা নিয়ে একাধিক বার সরব হয়েছিল বিজেপি। বিজেপি ভোটপ্রচার বলেছিল, তাঁরা ক্ষমতায় এলে কাউকে রেয়াত করবে না। যারা এই দুর্নীতি করেছেন তাঁদের জেলে যেতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতারা। আমফানের টাকা, সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে কাটমানি, প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতেও তৃণমূলের নেতারা টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল তাঁরা। তারই তদন্ত করবে প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অর্থে নির্মাণকাজে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নানারকম পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। কাটমানি নেওয়া হয়েছে। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপচয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর, দালাল অনেকে যুক্ত ছিলেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কমিশন তৈরির কথা ছিল।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “তারা (কমিশন) পুরো অফিস চালু করে দিলে, ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। পুরনো যে অভিযোগ বা এফআইআর যেগুলো পড়ে আছে, সেগুলো কালেক্ট করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি), এসসি কমিশন, এসটি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন, শিশু ও নারী অধিকার কমিশন, রাজ্য এবং কেন্দ্রের যত সুপারিশ এখনও পর্যন্ত পড়ে রয়েছে, সেগুলো কমিশন প্রাথমিক ভাবে নিয়ে নেবে।”


Share