Supreme Court

৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি মামলা এ বার সুপ্রিম কোর্টে, নোটিস জারি বেঞ্চের, অগস্টে বড় শুনানির সম্ভাবনা

আদালত জানিয়েছিল, সমস্ত শিক্ষক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এমন প্রমাণ মেলেনি। কয়েক জন অযোগ্য প্রার্থীর কারণে সকলের চাকরি বাতিল করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ ছিল আদালতের। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৪:৩০

পশ্চিমবঙ্গে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলাটি গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ মামলায় নোটিস জারি করেছে। আগামী অগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, সমস্ত শিক্ষক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এমন প্রমাণ মেলেনি। কয়েক জন অযোগ্য প্রার্থীর কারণে সকলের চাকরি বাতিল করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ ছিল আদালতের। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ১২ মে। সে সময় কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেন। পরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ডিভিশন বেঞ্চে গেলেও প্রথমে সেই রায় বহাল থাকে। এরপর রাজ্য সরকার, শিক্ষা পর্ষদ এবং কর্মরত শিক্ষকরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে শীর্ষ আদালত ওই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। পরে মামলাটি ফের কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে যায়। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর কর্মরত শিক্ষকদের পক্ষেই রায় ঘোষণা করা হয়।

২০১৪ সালের ৬ মার্চ টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। প্রায় ১৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফল প্রকাশের সময় জানানো হয় প্রায় এক লক্ষ ২৪ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে কারা কত নম্বর পেয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে ৪২ হাজার ৪৪৯টি শূন্যপদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২০১৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়।

পরবর্তীতে নিয়োগে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, কোনও মেধাতালিকা প্রকাশ না করেই এসএমএসের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথমবার নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা এবং টেটে প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এরপরই বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের তরফে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাই এখন সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে শুনানির পথে।


Share