Adani Group

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বিহারে হতে চলেছে বিনিয়োগ, গৌতম আদানির প্রকল্পে বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থান, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

এই মেগা প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, বিনিয়োগ করা হবে ভাগলপুর জেলার পিরপৈন্তির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

আদানি গোষ্ঠী
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৫৯

প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে বড়সড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা করলেন গৌতম আদানি। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে বিহারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করবে আদানি গ্রুপ। সারণ জেলার মাস্তি চকে ‘অখণ্ড জ্যোতি চক্ষু হাসপাতাল’-এর সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি জানান, বিহারের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানকার মানুষ। তাঁর কথায়, রাজ্যের মানুষকে কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মধ্যেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

এই মেগা প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, বিনিয়োগ করা হবে ভাগলপুর জেলার পিরপৈন্তির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। ইতিমধ্যেই বিহার সরকার এবং আদানি পাওয়ারের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ, লজিস্টিকস এবং গুদাম পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে সংস্থা। পাটনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ওয়্যারহাউস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্মার্ট মিটারিং, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং গ্যাস-ভিত্তিক প্রকল্প নিয়েও কাজ শুরু করার ভাবনা চলছে।

শুধু শিল্প বা ব্যবসা নয়, সামাজিক পরিষেবাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। সারণের ‘অখণ্ড জ্যোতি চক্ষু হাসপাতাল’-কে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করছে সংস্থা। এর ফলে বছরে প্রায় ছ'লক্ষ মানুষের চোখের অপারেশন সম্ভব হবে, যার অধিকাংশই নিখরচায় করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এই বিনিয়োগ ঘোষণা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ঘোষিত প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই পরিকল্পনার প্রকৃত সাফল্য। তবুও স্পষ্ট, ভবিষ্যৎ শিল্প ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিহারকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হিসেবে দেখছে আদানি গোষ্ঠী।


Share