Narendra Modi

‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’-এ সম্মানিত মোদী, গোথেনবার্গে বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় উজ্জ্বল ভারত-সুইডেন কূটনীতি

গোথেনবার্গের হোটেলে পৌঁছতেই প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন প্রবাসী বাঙালিরা। পিতলের বরণডালা, উলুধ্বনি ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্যবাহী রীতিতে সাজানো হয়েছিল স্বাগত অনুষ্ঠান।

‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ সম্মানে সম্মানিত হলেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সুইডেন
  • শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০২:৩৯

সুইডেন সফরে পৌঁছেই অতুলনীয় আপ্যায়নে ও আবেগঘন অভ্যর্থনায় আপ্লুত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গোথেনবার্গে প্রবাসী বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী বরণ থেকে শুরু করে সুইডেন সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান সব মিলিয়ে এই সফর কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

গোথেনবার্গের হোটেলে পৌঁছতেই প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেন প্রবাসী বাঙালিরা। পিতলের বরণডালা, উলুধ্বনি ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্যবাহী রীতিতে সাজানো হয়েছিল স্বাগত অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও।

এই আন্তরিক অভ্যর্থনায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বাংলায় পোস্ট করেন। তিনি জানান, বাঙালি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, সুইডেনও তার বাইরে নয়। এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বাঙালির গৌরবময় সংস্কৃতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

সফরের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে সুইডেনের জাতীয় সংরক্ষণাগার থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা দুটি কবিতার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে তুলে দেন উলফ ক্রিস্টারসন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯১৩ সালের নোবেলজয়ী কবির এই রচনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের মূল্যবান প্রতীক।

এর আগেও নেদারল্যান্ডস সফরে রাজ্যের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মোদী। প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারের সময় ঝালমুড়ি খাওয়ার স্মৃতিচারণ করেছিলেন। ইউরোপ সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘বাঙালিয়ানা’র উল্লেখ রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার গোথেনবার্গ বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান উলফ ক্রিস্টারসন। এরপর সুইডেন সরকার ঘোষণা করে, মোদীকে দেওয়া হচ্ছে ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ যা দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানগুলির অন্যতম এবং সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদেরই প্রদান করা হয়।

এই সম্মান পেয়ে নরেন্দ্র মোদী এশিয়ার প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে নতুন নজির গড়লেন। ১৭৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সম্মান বিশেষ অবদান, প্রশাসনিক সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের ক্ষেত্রে এর মর্যাদা আরও বেশি বলেই মনে করা হয়। এই সম্মান পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মোদীর প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সম্মানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১-এ।

সুইডেন সফরে ভারতের প্রধান লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভারত-সুইডেন সহযোগিতা কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই সফর শুধু কূটনৈতিক দিক থেকেই নয়, সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভারত ও সুইডেনের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিল।


Share