Dirt in the Hospital

হাসপাতালে আবর্জনার স্তূপ দেখে ক্ষুব্ধ বিজেপি সাংসদ! স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সুপারকে কালিম্পঙে বদলির দাবি জ্যোতির্ময়ের, শো-কজ অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ-সহ ৮ আধিকারিককে

এমনকি, হাসপাতাল থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করেন তিনি। ফোনে হাসপাতালের সুপারকে বদলির দাবিও জানান জ্যোতির্ময়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এই হাসপাতালের সুপারের এখানে অনেক দিন হল। ওঁকে বদলি করুন। কালিম্পঙে পাঠিয়ে দিন!’’P

পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩

পরিচিতের বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো। তবে হাসপাতালে পৌঁছে সেখানকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন তোলেন সাংসদ। এমনকি, হাসপাতাল থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করেন তিনি। ফোনে হাসপাতালের সুপারকে বদলির দাবিও জানান জ্যোতির্ময়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এই হাসপাতালের সুপারের এখানে অনেক দিন হল। ওঁকে বদলি করুন। কালিম্পঙে পাঠিয়ে দিন!’’

বিজেপি সাংসদের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে শুরু হয়েছে চর্চা। হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জ্যোতির্ময় বলেন, ‘‘হাসপাতালের করুণ অবস্থা দেখে আমি ব্যথিত। যেখানে যা জানানোর জানিয়েছি। কিছু অসাধু লোক হাসপাতালে রয়েছেন, যাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে সরকারকে বদনাম করার জন্য এসব করছেন।’’ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগের তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব যে সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাজের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাংসদের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। দফতর সূত্রে খবর, পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলেন না। কেন তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে আগাম কোনও তথ্যও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তাঁদের শো-কজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেডিকেল কলেজের ছ’জন সহকারী সুপারকেও কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কেন বজায় রাখা হয়নি, তা ছ’ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার করে তার ছবিও স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে, হাসপাতালের সুপারকে বদলির জন্য সাংসদের সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেসের কটাক্ষ, বিষয়টি অনেকটা ‘মশা মারতে কামান দাগা’র মতো। কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতো প্রশ্ন তোলেন, ‘‘পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজে কি উনি এই প্রথম পা রাখলেন? সেখানে ময়লা-আবর্জনা তো নতুন কিছু নয়! এই সব বিষয়ে মশা মারতে কামান না দেগে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে জোর দিলে মানুষের বেশি উপকার হবে।’’

অন্য দিকে, শো-কজের বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর দাবি, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য পরিকল্পনার ফাইল ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি হাসপাতালের সুপার সুকমল বিষই।


Share