France Riot

ফ্রান্সজুড়ে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, একাধিক এলাকায় আংশিক কার্ফু! অশান্তির আঁচে ভারতীয়দের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা দিল্লির, জমায়েত এড়ানোর নির্দেশ দূতাবাসের

বুধবার প্যারিসের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের জমায়েত ও বিক্ষোভের জায়গা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আগামী দিনে ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৩

ফ্রান্সে অশান্তি ও হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে একাধিক এলাকায় আংশিক কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। তবে তাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করে নির্দেশিকা জারি করল দিল্লি। বুধবার প্যারিসের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের জমায়েত ও বিক্ষোভের জায়গা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আগামী দিনে ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভের স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, “সজাগ ও সতর্ক থাকুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন। যে সব জায়গায় বিক্ষোভ চলছে, সেখানে যাবেন না।” পাশাপাশি, পরিস্থিতির দিকে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য প্যারিসের ভারতীয় দূতাবাসের নম্বর +33 6 48 34 00 63 এবং মার্সেইয়ের জন্য +33 7 43 16 25 59 দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্যারিসের স্কুলপড়ুয়ারা আন্দোলনে নামেন। স্কুল-কলেজে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবিতে শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভের সঙ্গে পরে যুক্ত হয় মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ার মতো একাধিক ইস্যু। ক্রমে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে। অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের চরিত্র বদলে তা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। একাধিক এলাকায় লুটপাট ও সংঘর্ষের খবর সামনে আসতে থাকে।

এই অশান্তির নেপথ্যে কমিউনিস্ট ও অভিবাসী মুসলিমদের একাংশের ভূমিকা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করেছে। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রদের আন্দোলনকে অন্য পথে চালিত করে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। এর মধ্যেই আগামী ২৪ অক্টোবর নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

অন্য দিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা ক্ষেত্রেও পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে ফরাসি সরকার। প্রয়োজনীয় স্কুলগুলিতে তিন হাজারেরও বেশি অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকশো অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং হিংসা চালানো এক বিষয় নয়। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া শোনার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।


Share