Chor Bagan Incident

'মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ মাইকে ঘোষণা করেছিল কে? চোরবাগান-কাণ্ডে দুই সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত পুলিশের, নদিয়া থেকে গ্রেফতার পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ

ওই ঘোষণার জেরে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে এক জনকে বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৫

চোরবাগান বিপর্যয়ে আতঙ্ক ছড়ানো ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ ঘোষণার রহস্যভেদে তৎপর কলকাতা পুলিশ। ওই ঘোষণার জেরে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে এক জনকে বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু। তিনি চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ। বিপর্যয়ের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই সেন্টুর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তাঁর বাড়িতে গিয়েও কোনও খোঁজ পাননি পুলিশকর্মীরা। তবে গোপন আস্তানা থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। নম্বরগুলি ট্র্যাক করেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতকে লালবাজারে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল একাধিক ভিডিয়ো। যদিও সেই ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করেনি এখন কলকাতা ডট কম। একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্য একটি ভিডিয়োয় মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের কাছে প্রবল ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির ছবি ধরা পড়ে। ভিড়ের চাপে কয়েক জন মাটিতে পড়ে যান। আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন অনেকে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইকে ঘোষণা শোনা যায়, ‘‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।’’

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই ঘোষণার পরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। দ্রুত মণ্ডপ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার তাগিদে শুরু হয় আরও হুড়োহুড়ি। মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার পথের কাছেই ছিল ক্লাব সদস্য ও বিশেষ অতিথিদের বসার ঘর। সেখান থেকেই মাইকে ঘোষণা করার ব্যবস্থা ছিল। লালবাজার সূত্রে খবর, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই ঘোষণার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের প্রশ্ন, ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়েছিল? মণ্ডপ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে এমন কথা বলা হয়েছিল? কারও নির্দেশে ওই ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দুই সন্দেহভাজন ঘোষকের বাড়ি অমর বসু সরণিতে, মণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে। ঘটনার পর থেকেই তাঁদের দু’জনেরই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের এক জনের পিসি জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর থেকে তাঁর ভাইপো বাড়ি ফেরেননি, পরিবারের সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্য সন্দেহভাজন পেশায় অ্যাপ-ক্যাব চালক। তাঁর স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, প্রকৃত দোষীকে আড়াল করতে তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হচ্ছে।

চোরবাগান বিপর্যয়ে আতঙ্ক ছড়ানো ওই ঘোষণার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেন্টুকে জেরা করে তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ঘোষণার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা এবং বিপর্যয়ের সঙ্গে তার যোগসূত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো সম্ভব নয়।


Share