Chor Bagan Incident

প্রতিমা নিরঞ্জনে ছাড় তবে অপরিবর্তিত রাখতে হবে মণ্ডপ, চোরবাগান মণ্ডপে সিটের পরিদর্শন, খতিয়ে দেখা হবে পুলিশের ভূমিকাও

আলো কম থাকা ও প্রবেশ-প্রস্থানের রাস্তা সরু হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মাইকে মন্ডপ ভেঙে পড়ার ঘোষণায় ঘটনায় ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন ঘোষকদের মধ্যে এক জনকে নদিয়া থেকে আটক করা হয়েছে।

জাভেদ শামিম এবং সিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৮

চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করল রাজ্য সরকারের গড়ে দেওয়া ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। মণ্ডপ খতিয়ে দেখার পর প্রতিমা নিরঞ্জনের অনুমতি দিয়েছে তদন্তকারী দল। তবে ঘটনার সময় মণ্ডপের যে অবস্থা ছিল, নিরঞ্জনের আগে পর্যন্ত সেটি হুবহু একই রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে। সিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী এই কথা জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইপিএস জাভেদ শামিম-সহ তদন্তকারী দলের অন্য সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ চোরবাগানের মণ্ডপে পৌঁছোয় সিট। মণ্ডপের ভিতর ও বাইরের অংশ তদন্তকারীরা ঘুরে দেখেন। প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তা, মণ্ডপের পরিকাঠামো এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। মণ্ডপের ভিডিয়োও রেকর্ড করা হয়েছে। সিট প্রধান জানান, ঘটনার সময় মণ্ডপের যে অবস্থা ছিল, এখনও তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

দুর্ঘটনার পর থেকেই মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ উঠছিল। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আলো কম থাকার কথা স্বীকার করেন অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁর কথায়, ঘটনার সময় যেমন আলো ছিল, এখনও সেই অবস্থাই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তাও যথেষ্ট সরু ছিল বলে তিনি জানান। ওই সরু পথে একসঙ্গে অনেক মানুষ ঢুকে পড়ার ফলেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সিট প্রধান।

তবে সিটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি মণ্ডপের ভিতরে নয়, প্রস্থান গেটের ঠিক বাইরে ঘটেছিল। ঘটনার পিছনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে মণ্ডপসজ্জা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের সঙ্গে তদন্তকারীরা কথা বলবেন। কথা বলা হবে মণ্ডপের শিল্পীর সঙ্গেও। চোরবাগানের ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকা নিয়েও যে প্রশ্ন উঠেছে, তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি, মণ্ডপে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে বলে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ঘোষণার জেরে আতঙ্ক ছড়ায় এবং মণ্ডপ থেকে দ্রুত বেরোনোর জন্য মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এই ঘোষণার পিছনে কারা ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখবে সিট। ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন ঘোষকদের মধ্যে এক জনকে নদিয়া থেকে আটক করা হয়েছে।

সিট প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিমা নিরঞ্জনে বাধা নেই। তবে নিরঞ্জনের আগে মণ্ডপের বর্তমান অবস্থা কোনওভাবেই বদলানো যাবে না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।


Share