CJP Protest

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নয়, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা! কোন কোন শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপি-র সৌরভ ও রাঙ্কা?

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ না করা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লিখিত মুচলেকা দিয়ে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেলেন সিজেপি-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।

(বাঁ দিক থেকে) সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৩

দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেলেন ককরোচ পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তবে মুক্তির আগে তাঁদের একাধিক শর্তে সম্মতি জানাতে হয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা থেকে শুরু করে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ না করার প্রতিশ্রুতি—লিখিত মুচলেকায় একাধিক বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পান দুই নেতা।

কী কী শর্তে মুক্তি?

সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আদালত-সহ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, যন্তর মন্তর যত দিন প্রতিবাদস্থলের তালিকার বাইরে থাকবে, তত দিন সেখানে কোনও বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।

ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি হলে তা সংবিধানের কাঠামো মেনেই করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং জামিনদার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়েছে। প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকা এবং বন্ডের শর্ত মেনে চলাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর দুপুর ৩টেয় পরবর্তী শুনানি। ওই দিন দুই নেতা ও তাঁদের জামিনদারদের উপস্থিত থাকতে হবে।

কেন হেফাজতের মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিল পুলিশ

শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে, এই যুক্তিতে সৌরভ ও রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজত আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। আদালতে দেওয়া বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য এবং লিখিত জবাবে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগও তোলা হয়। তবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ ঋতু রাজের দায়িত্বে থাকা এসইএম সেই আবেদন খারিজ করে জানান, শান্তি বজায় রাখতে বন্ড ও লিখিত আশ্বাস যথেষ্ট।

কীভাবে আটক হয়েছিলেন দুই নেতা?

গত ১০ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় তাঁদের। পরে বিএনএসএস-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করা হয়। ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দিয়ে সেদিন মুক্তি পেলেও, ১৪ অক্টোবর তেরঙ্গা মিছিলের সময় যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং আগের বন্ডের শর্ত ভাঙার অভিযোগে ফের আটক হন তাঁরা। প্রথমে পাঁচ দিনের হেফাজত, পরে ১৯ অক্টোবর আরও দু’দিন হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মুক্তিতে রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

দুই নেতার মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে সিজেপি। দলের লিগাল সেলের প্রধান রত্না সিংয়ের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছেন, গোটা দেশ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পাশে রয়েছে।


Share