BJP Leader Arrested

‘কালকের মধ্যে টাকা দিবি’ তৃণমূলকর্মীকে মারধরের অভিযোগ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে, অভিযোগ পেয়ে গ্রেফতার করল পুলিশ

কাটোয়ায় তৃণমূলকর্মীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ মোদক। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে তাঁকে ফাঁসানোর দাবি করেছেন প্রসেনজিৎ।

ধৃতের নাম প্রসেনজিৎ মোদক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৪

তৃণমূলকর্মীকে মারধরের অভিযোগে কাটোয়ার বিজেপি নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম প্রসেনজিৎ মোদক। ধৃত বিজেপি নেতার দাবি, বিজেপি কর্মীরাই তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। বিজেপি-র শহর সভাপতির দাবি, ধৃত আগে বিজেপি করতেন। কিন্তু এখন দলে নেই। অন‍্যদিকে, বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি আবার ধৃতের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।

প্রসেনজিৎ মোদক কাটোয়া শহরের প্রাক্তন বিজেপির সম্পাদক ছিলেন। সংবাদমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ‘এখন কলকাতা’ ভিডিয়োর সত‍্যতা যাচাই করেনি। তাতে দেখা গিয়েছে, খালি গায়ে উবু হয়ে বিজেপি নেতার পায়ের সামনে পড়ে রয়েছেন ওই তৃণমূলকর্মী। সেই ভিডিয়োতেই বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “কালকের মধ্যে টাকা দিবি। বল ভুল হয়ে গিয়েছে…।” উত্তরে তৃণমূলকর্মী বলছেন, “পায়ে পড়ছি”। বাড়ির এক মহিলাকে মারধরে বাধা দিতেও শোনা যাচ্ছে ওই ভিডিয়োতে। তিনি কাতর গলায় বলেন, “আর নয়, আর নয়।” এর পরেই ওই তৃমমূল কর্মীকে ক্ষমা চাইতে বলেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা। আর একজন পাশ থেকে বলে ওঠেন, “ক্ষমা চাও পা ধরে। বলো, ভুল হয়ে গিয়েছে।” বচসার মাঝেই ওই তৃণমূলকর্মী তাঁকে গালাগালি দেন বলে অভিযোগ করেন প্রসেনজিৎ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রসেনজিৎ ভোরবেলা ওই তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে ঢোকেন। এর পরেই ওই তৃণমূলকর্মীকে তাঁর মা, স্ত্রী এবং সন্তানের সামনেই বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মেরে কার্যত মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলকর্মীর পরিবার দাবি করেছে। 

তবে মারধরের ওই ভিডিয়ো বিজেপির তরফেই সমাজমাধ‍্যমে পোস্ট করা হয়। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তার পরই প্রসেনজিৎকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তৃণমূলকর্মীর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। 

বিজেপির নগরের সাংগঠনিক সভাপতি সুমন দেবনাথ জানান, প্রসেনজিৎ একসময় বিজেপির পদে ছিলেন। এখন কোনও ভাবেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর কথায়, প্রসেনজিৎ মোদকের সঙ্গে এখন বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। কাটোয়া পুরসভার নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সুমন বলেন, “এর মধ্যে মিথ্যে নেই। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কোনও সম্পর্ক নেই। দলের পদাধিকারী ব্যক্তিও যদি অনৈতিক কাজ করেন, আইন নিজের মতো কাজ করবে।” 

কিন্তু প্রসেনজিৎকে আদালতে হাজির করানোর সময় বিজেপির জেলা সভানেত্রী সীমা ভট্টাচার্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর দাবি, প্রসেনজিতের স্ত্রীর গায়ে হাত দেন ওই তৃণমূলকর্মী। তাই প্রসেনজিৎ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সীমা বলেন, “প্রসেনজিতের বিজেপিতে জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় থেকেই ও টার্গেট ছিল। বাড়ি করতে গেলে তোলা তুলতে এসেছিল অনিন্দ্য, ভাস্কর, দিগন্ত পালকে নিয়ে। পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছে। ১৮ তারিখ প্রসেনজিতের স্ত্রী ঠাকুর দেখতে বেরোলে তাঁর গায়ে হাত দেয়। তাঁর ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে নেয়। সেটা নিয়ে যদি বাড়িতে গিয়ে হাতাহাতি হয়, আমি তো কোনও অন্যায় দেখছি না।” 

বিজেপি নেতৃত্বের ভিন্ন ভিন্ন এই মতে নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “১৮ তারিখ ভোরবেলা ৪টের সময় প্রসেনজিৎ বেশ কিছু মত্ত যুবককে নিয়ে জোর করে বাড়িতে ঢোকে। বাড়ি ভাঙচুর করে, ব্যাপাক মারধর করে। ওর স্ত্রীকেও মারধর করে। আক্রান্ত তৃণমূলকর্মী অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়।” 

আদালতে হাজির করানোর সময় প্রসেনজিৎ বলেন, “এগুলো একেবারেই মিথ্যে অভিযোগ। আমার জনপ্রিয়তা খুব বেশি হচ্ছিল বলে দলেরই লোকজন এ সব করছে। কী বলব! এগুলোই হচ্ছে।”


Share