INDI Alliance

এসআইআর বাতিলের দাবিতে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি বিরোধীদের! জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে নতুন রণকৌশল, বৃহস্পতিবারই বৈঠকে বসতে পারেন মমতা-রাহুলরা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সনিয়া গাঁধী এবং রাহুল গাঁধীর মতো নেতারাও যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বৈঠক নিয়ে বিরোধী জোটের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

রাহুল গাঁধীর সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৭

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’। উৎসবের মরসুম কাটতেই আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইন্ডি জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসতে পারেন। ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই বৈঠক হওয়ার কথা। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সনিয়া গাঁধী এবং রাহুল গাঁধীর মতো নেতারাও যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বৈঠক নিয়ে বিরোধী জোটের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি এবং আম আদমি পার্টির মতো বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। এর আগে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও যোগ দিয়েছিলেন ‘ইন্ডি’ জোটের নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদ থেকে না-সরলে আন্দোলন থামবে না। তবে দুর্গাপুজো ও দীপাবলির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির গতি কিছুটা কমেছিল। নভেম্বরের শুরু থেকেই আন্দোলনকে ফের জোরদার করতে চাইছে বিরোধী শিবির।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযানের অধীনে দিল্লিতে রামলীলা ময়দান থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করার কথা আগেই জানিয়েছে বিরোধীরা। সেই কর্মসূচি কী ভাবে আরও জোরদার করা যায়, পাশাপাশি কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতে কী কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচিও চূড়ান্ত হতে পারে।

বিরোধী জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক বিকল্পের কথা জানিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই হওয়া মিছিলকে আরও বড় আকারে আয়োজন করার প্রস্তাব যেমন রয়েছে, তেমনই সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়াও, আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে আগামী দিনে ঠিক কোন পথে আন্দোলন এগোবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিরোধী জোটের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Share