Weather Update

‘অর্ণবের’ পর এবার মুরাসু! বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, মঙ্গলবার অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা, পশ্চিমবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?

আগামী মঙ্গলবার তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আকারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে আপাতত বঙ্গে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১১:১৮

‘অর্ণব’ যেতে না যেতেই ‘মুরাসু’। নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা বঙ্গোপসাগরে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’। শক্তি বাড়িয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিয়ে আগামী মঙ্গলবার সেটি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সেই সময় উপকূলে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা।

মৌসম ভবনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি দ্রুত পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। শনিবার রাতে ছ’ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার বেগে সেটি এগিয়েছে। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল চেন্নাই থেকে ৮৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে। বিশাখাপত্তনম থেকে দূরত্ব ছিল ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে। এ ছাড়া মছিলিপত্তনম থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ওঙ্গোল থেকে ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে নিম্নচাপটি অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, রবিবার দুপুরের মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে রবিবার মধ্যরাত নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘মুরাসু’। সোমবারের মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে সেটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

এরপর ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোবে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছোতে পারে। আবহবিদদের অনুমান, ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে ঘূর্ণিঝড়। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকার সম্ভাবনা। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে।

তবে সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি কোনও প্রভাব আপাতত পশ্চিমবঙ্গে পড়ার আশঙ্কা নেই। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড় সংলগ্ন পাঁচ জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বুধবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর রাজ্যের সর্বত্র আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। আপাতত নতুন করে কোনও আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়নি।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৩ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি বেশি ছিল ওই তাপমাত্রা।


Share