Weather Update

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টি বঙ্গে! উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে কোথায় কোথায় থাকছে বৃষ্টির সম্ভবনা?

পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ ছয় জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৭

গতকাল ‘অর্ণব’- এর ল্যান্ডফল হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে ঢুকে শক্তি হারিয়েছে। বর্তমানে অতি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে ছত্তিশগড়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে তার প্রভাবে বৃহস্পতিবারও মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির ব্যাপকতা বাড়তে পারে।

স্থলভাগে প্রবেশের পর শক্তি হারিয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। বর্তমানে অতি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে সিস্টেমটি। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নতুন করে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশেও রয়েছে আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত। পাশাপাশি একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকছে উত্তর-পশ্চিম ভারতে।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে আজ, বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানের দু-একটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলির বেশিরভাগ জায়গায় এবং দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলির কিছু অংশে বৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও দু-এক জায়গায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। তবে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে। ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বাকি এলাকায় মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির দু-একটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

শুক্রবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব জেলাতেই অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওই দিনও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

৩১ অক্টোবর, শনিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে থাকতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। ১ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকবে। কিছু এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। কখনও আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে সামান্য ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

শুক্রবার থেকে কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমবে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহে ফের বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার আগে মাঝে শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৮ থেকে ৯৮ শতাংশ। শহরে সামান্য বৃষ্টিও হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে সপ্তাহের শেষভাগেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


Share