Cyber Crime

শিলিগুড়িতে ৯১ লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণায় বড়সড় পর্দাফাঁস! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে গ্রেফতার বেসরকারি ব্যাংকের ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার

ধৃতের নাম অনির্বাণ সিকদার। তিনি আপার বাগডোগরার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৬

৯১ লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণার তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। ধৃতের নাম অনির্বাণ সিকদার। তিনি আপার বাগডোগরার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯১ লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধাননগর থানায় মামলা দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে প্রথমে মানসী মিশ্র মণ্ডল নামে এক যুবতীকে খড়িবাড়ির বাতাসি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। তাঁকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সাইবার প্রতারণার সঙ্গে সেই অ্যাকাউন্টের সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে পুলিশের।

এরপরই তদন্তের স্বার্থে সেবক রোডের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় পৌঁছোয় প্রধাননগর থানার পুলিশ। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশ সূত্রের দাবি, মানসী যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি খুলেছিলেন, সেখানে জমা দেওয়া বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র নিয়েও একাধিক অসঙ্গতি নজরে আসে তদন্তকারীদের। এরপরই ব্যাঙ্কের কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তাঁরা।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই শাখার তৎকালীন ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অনির্বাণ সিকদার বর্তমানে বদলি হয়ে বর্ধমান রোডের শাখায় কর্মরত রয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছোন তদন্তকারীরা। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর অনির্বাণকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে প্রধাননগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যাঙ্ককর্মীকে আগামীকাল শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে। ৯১ লক্ষ টাকার এই বিপুল অঙ্কের সাইবার প্রতারণার পিছনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, নথিপত্র যাচাই এবং ব্যাঙ্ককর্মীর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


Share