Suvendu Adhikari on CPIM

‘তপন কোথায়? জেলে দেখতে চাই’, গড়বেতার সভা থেকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, সিপিএম আমলের পুরনো মামলা খোলার সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর

গড়বেতার সভা থেকে সিপিএম আমলের ছোট আঙারিয়া, নন্দীগ্রাম ও কেশপুরের পুরনো রাজনৈতিক হিংসার মামলা খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সিপিএমকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩৪

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থেকে সিপিএম আমলের রাজনৈতিক হিংসার পুরনো ঘটনাগুলি নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছোট আঙারিয়া, নন্দীগ্রাম থেকে কেশপুর-একাধিক ‘লাল সন্ত্রাস’-এর ঘটনার উল্লেখ করে মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। শনিবার বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও সভা’ থেকে সিপিএমের প্রাক্তন নেতা তপন ঘোষ ও সুশান্ত ঘোষকে নিশানা করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁদের জেলে দেখতে চাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

গড়বেতার সভা থেকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এক সময় সিপিএমের দলীয় কার্যালয় থেকে বন্দুক নিয়ে নন্দীগ্রামে ‘সূর্যোদয়’ ঘটাতে কারা গিয়েছিল, তা খুঁজে বের করা হবে। তাঁর কথায়, “সব কেসের ফাইল খোলা হবে। একটাকেও ছাড়ব না।” নন্দীগ্রাম ও গড়বেতার পুরনো ঘটনাগুলির তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি পুনরায় খোলার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ছোট আঙারিয়া ও নন্দীগ্রাম পর্বে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন সিপিএম নেতা তপন ঘোষ ও শুকুর আলি। তাঁদের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে একসময় এলাকায় ঢুকলে পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার তিন দিনের মধ্যেই তিনি সেখানে সভা করেছিলেন বলে দাবি করেন। এরপরই মঞ্চ থেকে প্রশ্ন তোলেন, “তপন কোথায়?” পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “তপনকে জেলে দেখতে চাই।”

এ দিন সুশান্ত ঘোষকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। কঙ্কালকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে ‘কঙ্কাল-কাণ্ডের নায়ক’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, সংশ্লিষ্টদের জেলে দেখতে চান তিনি।

তৃণমূল ও সিপিএমকে একই বন্ধনীতে রেখে শুভেন্দুর অভিযোগ, “এখন যাহা তৃণমূল, তাহাই সিপিএম।” দুই দল মিলেমিশে নৈরাজ্য তৈরি করতে চাইছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২০০১ সালে গড়বেতার ছোট আঙারিয়ায় তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘিরেও রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দিকে, কেশপুরে সিপিএম ও তৃণমূলের ক্ষমতার লড়াইও একসময় রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়। সেই সমস্ত ঘটনার ‘হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, কোনও ঘটনাই তাঁরা ভুলে যাননি। 


Share