Child Abuse

দত্তপুকুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার অভিযুক্ত

শিশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষায় দেরি ঘিরে বারাসত মেডিক্যাল কলেজে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০৬

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে শিশুটিকে পাশের বাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে তিনি যৌন হেনস্থা করেন। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে, শিশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হওয়ায় বারাসত মেডিক্যাল কলেজে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ ফাঁড়ির অধীন সুভাষনগরে নির্যাতিত শিশুর পরিবারের সদস্যেরা ভাড়া থাকেন। কয়েক মাস আগেই সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকারই পাশের একটি বাড়ির ছাদে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার শিশুটিকে নিয়ে নিজের বাপের বাড়িতে চলে যান তার মা। শুক্রবার পরিবারের অন্য সদস্যেরা ঘটনার কথা জানতে পারেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে শুক্রবার বিকেলে মা ও শিশুকে সুভাষনগরে ফিরিয়ে আনা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার কথা জানিয়ে প্রথমে নীলগঞ্জ ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি। যদিও পরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম অর্জুন সর্দার। পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরার মুখে তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করার কথা।

এদিকে, ঘটনার পর শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের দাবি, সেই সময় হাসপাতালে মাত্র একজন মহিলা চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। তিনি অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত থাকায় শিশুটির পরীক্ষা শুরু হতে দেরি হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বাস্থ্যপরীক্ষা সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হাসপাতাল চত্বরে তাঁরা বিক্ষোভও দেখান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবারের সদস্যেরা।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশের দাবি, সেই সময় এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরপর এই ধরনের ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


Share