Decrease Gold Price

বাজারে বড়সড় ধস সোনা-রুপোর! ২৪ ঘণ্টায় অনেকটা কমল দাম, ২২ ক্যারেটের নতুন দর কত?

অন্য দিকে, এক কেজি রুপোর দাম কমেছে ৬ হাজার টাকারও বেশি। ফলে উৎসবের মরশুমে যাঁরা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে কিছুটা স্বস্তির খবর।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৩২

সোনা ও রুপোর দামে একদিনের ব্যবধানেই বড়সড় পতন! ৩০ অক্টোবরের তুলনায় ৩১ অক্টোবর, শনিবার অনেকটাই সস্তা হলুদ ধাতু। শুধু সোনা নয়, উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে রুপোর দামও। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত নির্দেশক দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্য গ্রামপ্রতি ৩১৫ টাকা কমেছে। অন্য দিকে, এক কেজি রুপোর দাম কমেছে ৬ হাজার টাকারও বেশি। ফলে উৎসবের মরশুমে যাঁরা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে কিছুটা স্বস্তির খবর।

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রকাশিত স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির দর অনুযায়ী, ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের দাম গ্রামপ্রতি ১৩ হাজার ৭৫১ টাকা। ৩০ অক্টোবর এই দাম ছিল ১৪ হাজার ০৮৩ টাকা। অর্থাৎ একদিনে গ্রামপ্রতি দাম কমেছে ৩৩২ টাকা।

অন্য দিকে, ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রয়মূল্য গ্রামপ্রতি ১৩ হাজার ৩৮০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৩ হাজার ০৬৫ টাকা। অর্থাৎ দাম কমেছে ৩১৫ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার কেনার দরও কমে গ্রামপ্রতি ১২ হাজার ৫১৩ টাকা হয়েছে। আগের দিন এই দর ছিল ১২ হাজার ৮১৫ টাকা। অর্থাৎ একদিনে কমেছে ৩০২ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনার দামও গ্রামপ্রতি ১০ হাজার ৯৮৫ টাকা থেকে কমে ১০ হাজার ৭২৫ টাকা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দাম কমেছে ২৬০ টাকা।

সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও বড়সড় পতন দেখা গিয়েছে। ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি রুপোর দাম ৩০ অক্টোবর ছিল ১,৮৮,০৯৭ টাকা। শনিবার তা কমে হয়েছে ১,৮২,০৭৪ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৬,০২৩ টাকা।

কেন কমল সোনা ও রুপোর দাম?

শুধু দেশের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুর দামে বড়সড় পতন হয়েছে। ৩০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩,৮৮০.৯৭ ডলারে নেমে আসে। গত এক বছরের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য পতন এটি। একই সময়ে রুপোর দামও প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমে ৫০ ডলারের নীচে নেমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমেরিকায় সুদের হার আরও বাড়তে পারে, এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বাজারে। আমেরিকার অর্থনীতির প্রত্যাশার তুলনায় ভালো বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো করেছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনও সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, বন্ডের মতো সুদযুক্ত বিনিয়োগে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের একাংশ সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে অন্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তৃতীয়ত, শেয়ার বাজারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে পতনের প্রভাবও পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। লোকসান সামাল দিতে এবং নগদের জোগান বজায় রাখতে কিছু বিনিয়োগকারী সোনা ও রুপো বিক্রি করেছেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাতেই বিক্রির চাপ বেড়েছে।


Share