Food Safety Campaign

মায়াপুরে হোটেল ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, মিলল মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার! অনিয়মে একাধিক দোকান বন্ধের নির্দেশ

মায়াপুরে সারা বছরই দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তাঁদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত ঘাটতি মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মায়াপুর
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৪

রাজ্য জুড়ে চলছে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। এবার অভিযান মায়াপুরে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে মায়াপুরে। প্রতিদিনই বহু মানুষ ইসকন মন্দির চত্বরে ভিড় চত্বরে। তাঁদের খাবারের গুণগত মান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবার পথে নামল নদিয়া জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর। শুক্রবার নবদ্বীপ ব্লক প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে মায়াপুরের একাধিক হোটেল, বিরিয়ানির দোকান ও মুদিখানায় অভিযান চালানো হয়। আর সেই অভিযানে সামনে এল একাধিক অনিয়ম। কোথাও লাইসেন্সের অভাব, কোথাও আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ। নিয়ম না মানায় বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকরা।

শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলে। নেতৃত্বে ছিলেন জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক তৃষা হাজরা ও বিদিশা নাগ। উপস্থিত ছিলেন নবদ্বীপের বিডিও সুপ্রিয় ভট্টাচার্য, সহকারী বিডিও জয়ন্ত পাঠক এবং মায়াপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভাস সরকার। অভিযান চলাকালীন মোবাইল ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরির সাহায্যে কয়েকটি খাদ্যসামগ্রীর তাৎক্ষণিক পরীক্ষাও করা হয়। অনিয়মের প্রমাণ মেলায় সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকরা। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক তৃষা হাজরা জানান, আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলবে। শুক্রবার মায়াপুর মন্দির চত্বরের ১২ থেকে ১৩টি খাবারের দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অধিকাংশ দোকানেই স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত একাধিক ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স এবং হোটেল চালানোর প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রও ছিল না। পাশাপাশি কিছু দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী মিলেছে। সেই দোকানগুলিকে আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে তবেই ব্যবসা চালানোর কথা বলা হয়েছে।

নবদ্বীপের বিডিও সুপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মায়াপুর-বামুনপুকুর-২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। যেসব দোকানে ট্রেড লাইসেন্স ও ফুড সেফটি লাইসেন্স পাওয়া যায়নি, সেগুলিকে বন্ধ রাখার নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা এই অভিযানের উদ্দেশ্য নয়। বরং তাঁদের সচেতন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনে উৎসাহ দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, মায়াপুরে সারা বছরই দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তাঁদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।


Share