Jadavpur University

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ, কাঠগড়ায় শিক্ষাকর্মী

অভিযোগের তদন্তে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মীর ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। তবে সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত নির্যাতনের অভিযোগে ওই ছাত্রী নিজে আলাদা করে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।

যাদবপুর ইউনিভার্সিটি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:২৭

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষাকর্মী। কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুক্রবারের এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য হস্তক্ষেপ করেছেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার টেকনোলজি ভবনের সাততলায় সিঁড়িতে বসে কথা বলছিলেন কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের তিন ছাত্রী। সেই সময় সেখানে পৌঁছে তাঁদের নিচে নেমে যেতে বলেন এক শিক্ষাকর্মী। তাঁর নির্দেশ মেনে দু’জন নিচে নেমে গেলেও অন্য এক ছাত্রী সাততলাতেই থেকে যান। এরপর ওই ছাত্রীকে নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকর্মী সেখানে যান। অভিযোগ, সেই সময় ছাত্রীকে একা পেয়ে তাঁর হাত ধরে টানেন। কোমরও জড়িয়ে ধরেন। পরিস্থিতি বুঝে ওই ছাত্রী কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে নিচে চলে আসেন। পরে সহপাঠীদের কাছে গোটা ঘটনার কথা জানান।

ছাত্রীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পরই অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে সরব হন পড়ুয়াদের একাংশ। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকর্মী। তাঁর বক্তব্য, এর আগে টেকনোলজি ভবনের সাততলার ক্লাসরুম থেকে ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই কারণেই ওই তলায় অকারণে পড়ুয়াদের যাতায়াত নিষিদ্ধ। ছাত্রীদের সেখানে বসে গল্প করতে দেখে শুধুমাত্র সতর্ক করতেই তিনি গিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি। শ্লীলতাহানির মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানিয়েছেন। বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযুক্ত পালটা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটির কাছে পাঠানো হচ্ছে। কমিটি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত নির্যাতনের অভিযোগে ওই ছাত্রী নিজে আলাদা করে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।

তদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।


Share