Murder Case

দিনহাটায় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পেটের ভিতরের মৃত্যু সন্তানের, গ্রেফতার দু’জন

দিনহাটায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় সাহেবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক আক্রোশের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

আক্রান্তের বাড়িতে বিজেপি বিধায়ক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৩৩

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে বিপদে স্ত্রী। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিযোগ, তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পেটে আঘাত লাগার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শুক্রবার ওই মহিলা হাসপাতালে মৃত সন্তানের জন্ম দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের দিনহাটায় উত্তেজনা ছড়িয়ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক আক্রোশ রয়েছে বলে দাবি আক্রান্তের পরিবারের।

ঘটনাটি দিনহাটা-২ ব্লকের বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচনি এলাকার। জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে টিউশন পড়িয়ে বাড়ি ফিরছিলেন গৃহশিক্ষক দেবজিৎ বর্মন। সেই সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। কোনওরকমে তাঁদের হাত থেকে দেবজিৎ রক্ষা পেয়ে বাড়িতে পৌঁছোন। কিন্তু অভিযোগ, অভিযুক্তরা সেখানেও হামলা চালায়। স্বামীকে বাঁচাতে তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী প্রিয়া এগিয়ে আসেন। সে সময় তিনিও দুষ্কৃতীদের হামলার কবলে পড়েন। তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর পেটে আঘাত লাগে।

এরপর আহত দম্পতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সেখানেই প্রিয়া মৃত সন্তানের জন্ম দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারের দাবি, দেবজিতের এক আত্মীয়ের স্ত্রী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা। সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁদের পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

ঘটনায় সাহেবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে চন্দন বর্মন ও মনোরঞ্জন বর্মন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি আক্রান্তের পরিবারের।

ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি বিধায়ক অজয় রায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। পাশে থাকারও আশ্বাস দেন। বিধায়কের বক্তব্য, অভিযুক্তরা যে দলেরই হোক না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কাউকে রেয়াত করা যাবে না বলেও তিনি জানান। গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।


Share