Sarsuna Police Parade Case

সরশুনায় তিন জন অভিযুক্তকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় হাঁটানো অভিযোগ, স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, লালবাজারকে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, সরশুনায় তিন জনকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় কোমরে দড়ি বেঁধে পুলিশ হাঁটানোর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের বিষয়বস্তু যদি সত্যি হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর ঘটনা।

সরশুনার ঘটনায় কলকাতা পুলিশের জবাব তলব করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪৭

সরশুনায় তিন অভিযুক্তকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে। বিতর্ক ছড়িয়ে পড়তেই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগামী দু’সপ্তাহের মধ‍্যে কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক দিন আগে এক নাবালিকার সঙ্গে দেখা যাওয়ার অভিযোগে ১৮ বছরের এক যুবক, তাঁর বন্ধু এবং যুবকের বাবাকে বাড়িতে তুলে নিয়ে এসে মারধর করে নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। সেই ঘটনায় নাবালিকার মা, বাবা, তাঁর মামা এবং মামার বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুবকের পরিবার সরশুনা থানায় মামলা করা হয়। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ‍্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে চার জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে নাবালিকা মা-ও ছিল। 

পরের দিন এফআইআরে নাম থাকা নাবালিকার বাবা, তাঁর মামা এবং মামার বন্ধুকে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন‍্য তিন জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় তাঁদের কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল। পরনে হাফপ্যান্ট ছাড়া কিছুই ছিল না। তা নিয়ে বিতর্ক ছড়ায়। নানা মহল থেকে পুলিশ ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, সরশুনায় তিন জনকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় কোমরে দড়ি বেঁধে পুলিশ হাঁটানোর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের বিষয়বস্তু যদি সত্যি হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর ঘটনা। সেই কারণেই কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে নোটিস পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

যদিও এখনও পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কোনও রিপোর্ট পাঠানো হয়নি বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন তাঁদেরকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা নিয়ে রিপোর্ট খুব শীঘ্রই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে লালবাজারের এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।


Share