Police Beaten

‘কী করবি তুই?’, পুলিশ আধিকারিকের কলার ধরে শাসানির অভিযোগ বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে, শাসকদলের নেত্রী দাদাগিরির ভিডিয়ো ভাইরাল

অভিযোগ, তিনি দলবল নিয়ে জমি দখল করতে এসেছিলেন। তা বাধা দেওয়ায় কয়েক জনকে মারধর করেছেন রেখা। পুলিশ জমি দখলে বাধা দেওয়ায় এক পুলিশ আধিকারিককের কলার ধরে রেখা হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ আধিকারিকের কলার ধরে শাসানির অভিযোগ বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৬

এ বার পুলিশ আধিকারিককের কলার ধরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিধায়কের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়কের নাম রেখা পাত্র। শরিকি জমি নিয়ে বিবাদের জেরে ওই বিধায়ক কান্ড করেছেন। অভিযোগ, তিনি দলবল নিয়ে জমি দখল করতে এসেছিলেন। তা বাধা দেওয়ায় কয়েক জনকে মারধর করেছেন রেখা। পুলিশ জমি দখলে বাধা দেওয়ায় এক পুলিশ আধিকারিককের কলার ধরে রেখা হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ উঠেছে।

গত রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দিন তিনি সন্দেশখালি থানা এলাকার বৌঠাকুরানিতে যান বিজেপি বিধায়ক। দেবজ্যোতি নস্করের বক্তব্য, বিজেপি বিধায়ক যখন সেখানে আসেন সেই সময় তাঁরা চাষের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আদালতের রায়ে তাঁরা ওই জমিতে চাষ করেছেন। আচমকা সেখানে এসে চড়াও হন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বাধা দিলে পুলিশকেও ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন। রেখার সঙ্গে দেহরক্ষীও ছিল। তাঁদের সামনেই মারধর করা হয়েছে বলে দেবজ্যোতি অভিযোগ করেছেন।

ইতিমধ্যেই একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনি সন্দেশখালি থানার সাব ইনস্পেক্টর শাহজামান তরফদারকে প্রথমে ধাক্কা দিলেন। তার পর আঙুল উঁচিয়ে তর্ক করা শুরু করলেন। শুধু তাই নয়, সন্দেশখালি থানার সাব ইনস্পেক্টরের জামার কলার ধরে বচসা শুরু করলেন। ‘কী করবি?’, ‘কী করবি?’ বলে হুমকি দিতেও বিজেপি বিধায়কে বলতে শোনা যায় ওই ভিডিয়োতে।

অভিযোগকারী দেবজ্যোতি বলেন, “আমরা জমিতে গিয়েছিলাম আদালতের রায় অনুসারে। কিছুটা রোয়ার পর হঠাৎ রেখা পাত্র এসে মারধর শুরু করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে পুলিশকেও মারধর করে। ওর যে দেহরক্ষী ছিলেন, তাদের সামনেই আমাদের মারধর করা হয়েছে। বলেছে, সবাইকে দেখে নেবে। বিধায়ক পদের অপব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তির দখল রেখা নিতে চাইছে।”ঘটনার বিচার চেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চেয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “বিধায়ক আমাদের অত্যাচার করেছে। ঘটনার যেন এর ন্যায়বিচার হয়। রেখার যেন শাস্তি হয়।”

রুম্পি নস্কর বলেন, “বলছে, আমি এমএলএ। আমি যেটা করব, সেটাই হবে। নিজেই মারধর করছিল। লাঠি-বাঁশ দিয়ে আমাদের মারা হয়েছে। ও জমির দখল নিতে এসেছিল। উনি এখন ক্ষমতায়। এখানে এসে বলছেন, আমার বাবার জমি এখানে আছে। আমি এখানে চাষবাস করব। ক্ষমতায় আছেন বলে দখল করতে আসবেন! সেটা তো মেনে নেব না আমরা!” এই ঘটনায় দু'পক্ষই সন্দেশখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

দলীয় বিধায়কের দাদাগিরি নিয়ে রাজ‍্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাফাই, রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনও রাজনৈতিক অভিযোগ নয়। পারিবারিক অশান্তি নিয়ে বিধায়কের কাছে কেউ আসতেই পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে বিধায়ককে ঠিক করতে হবে। তবে এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। 

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, “বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই পারে। তবে এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে বিজেপির কোনও নেতা বা কর্মী যুক্ত নন। পুলিশ আক্রান্ত হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।” পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে বলে তিনি মনে করছেন। বিতর্কি উস্কে দিয়ে শমীক আরও বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পুলিশ টেবিলের নীচে ঢুকে পড়বে না।”

এ নিয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি সুকল্যাণের দাবির, “এটা সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয়। কী হল জানার জন্য ওঁকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি।” বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

অন্য দিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন বলেন, “১২-১৩ বছর ধরে মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায় জমানায় বাস করছি। এখন বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে। উনি বিধায়ক হয়েছেন। নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করছেন।”


Share