Calcutta High Court

মমতার মাহেশের সভা নিয়ে ফের আইনি জট, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য

বিচারপতি ভট্টাচার্যের নির্দেশের একটি অংশ সংশোধনের আর্জি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলেই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৩

হুগলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। এ বার বিষয়টি পৌঁছোল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে সভার অনুমতি দিয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল। যে মাঠে কালীঘাট তৃণমূলকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই রাজ্য আপত্তি জানিয়েছে। বিচারপতি ভট্টাচার্যের নির্দেশের একটি অংশ সংশোধনের আর্জি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলেই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে।

কালীঘাট তৃণমূল শুক্রবার শ্রীরামপুরের মাহেশে সভা করার অনুমতি পেয়েছে। ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীঘাট তৃণমূল মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা করতে পারবে। তবে রাজ্য ওই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েই ব্যাখ্যা চেয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য বিষয়টি উত্থাপন করেন। ফলে শুক্রবারের সভার আগে ফের আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, সভাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, পুলিশকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সভার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই বলেই আদালতে জানানো হয়েছে। তবে যে মাঠে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। সেই জমির মালিক যদি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন, সে ক্ষেত্রে পুলিশই বা কী করতে পারে? ডিভিশন বেঞ্চে এই প্রশ্নই তুলেছে রাজ্য।

রাজ্যের আরও বক্তব্য, ওই মাঠটি মূলত ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে রাজনৈতিক সভার জন্য মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে কোনও ব্যক্তিকে পুলিশ জোর করতে পারে না। প্রধান বিচারপতির এজলাসে রাজ্যের আর্জি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় থেকে পুলিশকে যেন অব্যাহতি দেওয়া হয়। তা সম্ভব না হলে, রাজ্য অন্য কোনও জায়গায় কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

মাহেশের ওই মাঠটির মালিকপক্ষও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদেরও বক্তব্য, ওই জমি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। মাহেশের রথের মেলার সময়েও ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তারা ওই জমি দিতে ইচ্ছুক নয় বলে জানান জমির মালিকপক্ষের।

এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি ঘুগের মন্তব্য, “রাজনৈতিক কর্মসূচি করার আগে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে। এমন জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় না পড়েন। আপনারা বিকল্প জায়গা ঠিক করে আসুন।”

এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরকে শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি দেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা করতে পারবেন। দুপুর একটা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি। তবে সভায় দু'হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না বলে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে।

পাশাপাশি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে, এমন কোনও উস্কানিমূলক মন্তব্য সভা থেকে করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সভাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সভায় দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বরের তালিকাও বৃহস্পতিবার রাত আটটার মধ্যে পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে।


Share