Jadavpur University

‘অনেক মানুষকে হত‍্যা করেছে কিষেণজি’, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত ‘বাণী’ মোছা নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রবিবার খড়্গপুর লোকাল থানার সামনে একটি রিসর্টে দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণ শিবিরের শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু।

মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর
  • শেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৯

রবিবার সকাল থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল থেকে বিতর্কিত স্লোগান মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষের ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ বলে চিহ্নিত করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি মাওবাদী জঙ্গিনেতা কিষেণজিকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “কিষেণজি অনেক মানুষকে হত্যা করেছে।”

রবিবার খড়্গপুর লোকাল থানার সামনে একটি রিসর্টে দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণ শিবিরের শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। 

শুক্রবারের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী রনংদেহী সুরে কলাবিভাগের দেওয়ালে কেন ‘কিষেণজি রেড স্যালুট’ স্লোগান লেখা থাকে? কেন সেখান থেকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান ওঠে বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেদিন হুঁশিয়ারি শুভেন্দু বলেছিলেন “এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।” শুক্রবারের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরে সরকারি পদ বাঁচাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনের দেওয়াল থেকে বিতর্কিত এবং চরমপন্থী কমিউনিস্টদের ‘আদর্শের বানী’ মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই মতো সকাল থেকে সাফাই অভিযান শুরু হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী যাদবপুর নিয়ে বলেন, “মোছা অনেক আগেই উচিত ছিল। বিলম্বিত বোধোদয়।” তিনি আরও বলেন, “সকলেই এ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আমিও যাদবপুরের ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রারকে বলেছি। অভিযোগ যা এসেছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই স্লোগানগুলি দেশের পক্ষে নয়। শিক্ষার স্বার্থেও তা ছিল না। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মাওবাদী জঙ্গিদের দমন শুরু করেছিল। বেশিরভাগ মাওবাদী জঙ্গিনেতা নিকেশ হয়েছে, অথবা আত্মসমর্পণ করেছে। দেশের মাটি থেকে ‘লাল সন্ত্রাস’-কে নির্মূল করতে ইতিহাস তৈরি করেছে ভারত সরকার। কিন্তু তার পরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে ‘রেড স‍্যালুঠ কিষেণজি’ লেখা চোখে পড়ে। এমন শীর্ষ মাওবাদী জঙ্গিনেতার সমর্থনে কীভাবে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন হয় তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন অনেক আগে থেকেই ছিল। তৃণমূল আমলে এই বিতর্ক অনেক বার হলেও সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন ভাবে উদ্যোগী হয়নি।

এ দিন জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে আইইডি বিস্ফোরণ এবং শালুয়ায় পুলিশ ক‍্যাম্পে নৃশংস হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। “প্যালেস্তাইন কি? রেড স্যালুট কিসের? কত নিরপরাধ লোককে মেরেছে? জ্ঞানেশ্বরী ট্রেন উড়িয়ে দিয়েছিল। ১০৯ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানকার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। শালুয়ায় ইএফআর শিবিরে মাওবাদীরা দু’হাতে গুলি চালিয়ে নিরপরাধ ২৭ জন গোর্খা জওয়ানকে হত্যা করেছিল।”

এর পরেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী। তাঁর আমলে এ সব চলতে পারে না। বলেন, “মুছেছে তো। সবে তো শুরু। এর পর আরও কিছু হবে।”


Share